দুর্গম পাহাড়ে নওমুসলিমদের পাশে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ

fec-image

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা ও রামগড় উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসরত নওমুসলিম পরিবারের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করেছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ। সংগঠনটির উদ্যোগে গরু কোরবানি করে প্রায় ৭০টি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করা হয়।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, জাফর তালুকদার, মাওলানা ইছহাক আলী, মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহিন আলম, এস. এম. রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী পুরাতন বাজার ইসলামিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এবং শনিবার বেলা ১২ ঘটিকায় রামগড় উপজেলার তৈছালা পাড়ায় এ কোরবানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পাহাড়ের হতদরিদ্র নওমুসলিমদের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে এ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে সংগঠনটি।

এসময় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মোঃ মোস্তফা আল ইহযায বলেন,“জেলার অধিকাংশ নওমুসলিম পরিবার দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করে। তারা দিনমজুর, কাঠুরিয়া ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কোরবানি দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। আবার দুর্গম এলাকায় বসবাস করায় সামাজিকভাবে বিতরণ হওয়া কোরবানির মাংস থেকেও তারা প্রায়ই বঞ্চিত থাকেন। ফলে ঈদের আনন্দ তাদের কাছে সীমিত হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতায় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে নওমুসলিম পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে মাত্র।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত নওমুসলিম জনগোষ্ঠীর লোকেরা দীর্ঘদিন ধরেই নানামুখী অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। শিক্ষা, চিকিৎসা, ধর্মীয় চর্চা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে তারা এখনও পিছিয়ে রয়েছে। অথচ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ছিল এসব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো।

দুঃখজনক হলেও সত্য, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে নওমুসলিমদের জন্য দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। বিশেষ করে ঈদ, রমজান কিংবা কোরবানির মতো ধর্মীয় উৎসবগুলোতে তাদের জন্য আলাদা কোনো কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। ফলে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মানবিক উদ্যোগই তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে পাহাড়ের অসহায় নওমুসলিম জনগোষ্ঠীকে জীবনমান উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

জেলার রামগড়ে বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহিন আলম আরও বলেন, পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো বহু পরিবার রয়েছে, যারা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দাতা সংস্থা ও মানবিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে এসব অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

এসময় কোরবানির মাংস পেয়ে নওমুসলিম পরিবারগুলোর সদস্যদের মাঝে আনন্দ ও সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই জানান, বছরের বিশেষ এই দিনে এমন সহযোগিতা তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বোয়ালখালী পুরাতন বাজার ইসলামিয়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু সহায়তাই নয়, মানুষের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি জাগ্রত করে। সমাজের বিত্তশালীরা যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে পাহাড়ের অসহায় মানুষদের দুঃখ অনেকটাই লাঘব হবে।”

অনুষ্ঠান শেষে দেশবাসী, মুসলিম উম্মাহ, দাতা সদস্য এবং নওমুসলিম পরিবারের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। তিনি মহান আল্লাহর নিকট দেশের শান্তি, সম্প্রীতি এবং পাহাড়ি অঞ্চলের অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য দোয়া করেন।

সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবিষ্যতেও পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও নওমুসলিম পরিবারগুলোর পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নওমুসলিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন