নাইক্ষ্যংছড়িতে জমে উঠেছে ৩ ইউপি নির্বাচন

fec-image

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ১৪ অক্টোবর। এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশ না নেয়ায় নৌকার সমর্থকদের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। আর যারা নৌকা প্রতীক পেয়েছেন তাদের মধ্যে সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী তসলিম ইকবাল ছাড়া বাকী দু’ নৌকার প্রার্থীর সাথে স্থানীয় আওয়ামী পরিবারের সর্ম্পক পূর্ব থেকে শীতল যাচ্ছিলো। পাশাপাশি সদর ইউনিয়নেও দলাদলীর কষাঘাতে পড়ে হিমশিম খাচ্ছে নৌকা প্রতীকের তসলিম ইকবাল । এভাবে নৌকা প্রতীক পাওয়া প্রার্থীরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন নিজেদের দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াত-বিএনপির সর্মথকদের কাছে। তারা নৌকা ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শেষ মূর্হুতে এসে।

এদিকে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ হওয়ায় দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মী ও নিজ দলের বিদ্রোহী নেতা কর্মীদের মাঝে বাড়ছে কোন্দল। অপর দিকে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হতে হচ্ছে নিজ দলের নেতাকর্মীদের। এ জন্য নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে নাইক্ষ্যংছড়ি আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন ঘুরে আরও জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা। এ ২টি ইউনিয়নে বিএনপি বা অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী না থাকায় নৌকা ঠেকাতে উঠে পড়ে লেগেছে জামায়ত-বিএনপিআওয়ামী লীগের একটা অংশ সর্মথকরা ।

সূত্র আরও জানায়, সদর ইউনিয়নে তসলিম ইকবাল চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান এবং বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক শফিউল্লাহর ঘনিষ্টজন। তিনি পেয়েছেন নৌকা প্রতীক। তার প্রতিদ্বন্দ্বি নুরুল আবছার সাবেক বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার পিতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে ১নং সহ-সভাপতি। তার এক বড়ভাই জাফর আলম উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক শফিউল্লাহর আপন খালাতো ভাই। তিনি নৌকা প্রতীক না পেয়ে নির্বাচন করছেন আনারস প্রতীক নিয়ে।
এ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১১১২৩ টি।

একাধিক সচেতন ভোটার জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী একজন পরিক্ষিত নেতা। তার জনপ্রিয়তা ও কৌশলের কাছে হেরে যাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল আবছার। অপর একদল প্রার্থী বলেন, লোকজনের সাথে সহজে মিশতেপারা ও পারিবারিক বিচারে নুরুল আবছার পিছিয়ে নেই। উভয় দল  বলেন, সদর ইউনিয়নে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডা-হাড্ডি। তারা দু’জনই আওয়ামী পরিবারের সদস্য। আবার দু’জনেরই উপরে মামা আছে। এখানে লড়াই হবে শেয়ানে-শেয়ানে।
তারা দুজনই আশাবাদী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জিতবেন।

এদিকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন দাদা-নাতি। বর্তমান চেয়ারম্যান বাহান মার্মা হলেন দাদা আর এ্যানিং মার্মা নাতি। দাদা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। নাতি এ্যানিং মার্মা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। দাদার প্রতীক আনারস আর নাতির প্রতীক নৌকা। সচেতন ভোটাররা জানিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতিও। তিনি তাদের সোনাইছড়ি ইউনিয়ন এনে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ দিয়েছেন ৭ ওয়ার্ডে।

ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ কাজ শেষের পথে। তার ৫ বছর সময়ে বাহান মার্মা অন্তত শত কোটি টাকার কাজ উপহার দিয়েছেন। শিক্ষা, যোগাযোগ, পানি, বিদ্যুৎ ও ন্যায় বিচার ছিলো তার মূল কাজ। অপর দিকে নৌকা প্রতীক পাওয়া এ্যানিং মার্মাও ভোটারদের নানা ওয়াদা এবং তার দাদার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করে-তাকে হারনোর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি যুব সমাজকে হাতে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

আর ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রশিদ আহমদ। তার প্রতীক ঘোড়া। লোকজন জানান, এ ইউনিয়নে তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তিনি প্রবীন ব্যক্তি ও সৎ হিসাবে তার পক্ষে দলমত নির্বিশেষ মাঠে নেমেছে এলাকার মানুষ। সোমবার তিনি গণ সংযোগকালে হঠাৎ তার সাথে হাজার হাজার ভোটার জড়ো হয়ে গেলে এলাকার মানুষ অবাক হয়ে যান। তারা বলেন, ঘুমধুমে যেন হ্যামেলিয়নের বাশিঁওয়ালা নেমেছে। রশিদ আহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন।

আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, অবশ্যই বিগত পাঁচ বছরে মানুষের সেবা ও জনগণের উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি। এ জন্য আবারও তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন এলাকার মানুষ । এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

তবে নির্বাচনের বাকি আছে আরও ৫ দিন। ঘুমধুম, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নে নির্বাচনী পথ সভা সমাবেশে সরগরম। জমে উঠেছে নির্বাচন। পোস্টারে ছেয়ে গেছে হাট-বাজার। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার আবু জাফর মো. ছালেহ বলেন, ভোটাররা যাতে প্রতিটি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন সে জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ইউপি নিবার্চন, নাইক্ষ্যংছড়িতে
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × 4 =

আরও পড়ুন