নেপালকে ২-০ গোলে হারালো বাংলাদেশ

fec-image

ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ‘শক্তিশালী’ নেপালকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ-নেপাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচ দিয়ে করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর খেলায় ফিরলো বাংলাদেশ বাংলাদেশ এবং সেটা জয় দিয়ে।

খেলা শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় এবং খেলা শেষ হওয়ার দশ মিনিট আগে বাংলাদেশের পক্ষে দুটি গোল হয়। গোল দুটি করেন নাবিব নেওয়াজ জীবন এবং সুফিল।

করোনাভাইরাসের থাবায় আটজন ফুটবলারকে হারিয়েছে নেপাল। ফলে খর্বশক্তির দলে পরিণত হয়েছে তারা। ঘরের মাঠে তাদের পেয়ে উজ্জীবিত ফুটবল উপহার দিল বাংলাদেশ।

গেল মার্চ থেকে কোনো স্বীকৃত ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশ। এ নিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরল তারা। দারুণ এক জয়ে প্রত্যাবর্তন রাঙালেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এর আগে বাংলাদেশ সবশেষ ম্যাচ খেলে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে গেলো জানুয়ারিতে। তবে একই মাঠে বুরুন্ডির কাছে হেরে যায় তারা। এরপর মার্চে করোনার করাল গ্রাসে ঘরোয়া ফুটবল বন্ধ হয়ে যায়।

শুক্রবার দর্শক নিয়েই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয় খেলা। প্রাণঘাতী ভাইরাসের কারণে গ্যালারিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা তোয়াক্কা করেননি দর্শকরা। তাদের বিমুখ করেননি জামাল ভুঁইয়ারাও।

ম্যাচের শুরুতেই লিড নেয় বাংলাদেশ। ১০ মিনিটেই দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। ডান প্রান্ত থেকে সর্পিল ক্রস দেন সাদ উদ্দিন। ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে জড়ান তিনি।

এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছন্দময় ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। মুহূর্মুহু আক্রমণে নেপালকে কোণঠাসা করে ফেলে তারা। ফলে ২১ মিনিটে ব্যবধান প্রায় দ্বিগুণ হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু মোহাম্মদ ইব্রাহিমের হেড প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে মাঠের বাইরে ঠিকানা পায়।

২৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশ শিবিরে আতঙ্ক ছড়ায় নেপাল। কিন্তু অতিথিদের মিডফিল্ডার রবিশঙ্কর পাসওয়ানের শট লক্ষ্যে ছিল না। পরক্ষণে তাদের ফরোয়ার্ড নাওয়ায়ুগ শ্রেষ্ঠার শট সহজে লুফে নেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। এ ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অভিষেক হলো।

সেই রেশ কাটতেই ফের গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ২৭ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন মিডফিল্ডার মানিক মোল্লা। কিন্তু তা প্রতিহত করেন নেপালের গোলরক্ষক কিরণ কুমার লিম্বু। তার হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে বল বাইরে আস্তানা গাঁড়ে।

সেই তোড়ে ৩৬ মিনিটে হিমালয় কন্যাদের বেকায়দায় ফেলেন সাদ-জীবন। ডান প্রান্ত থেকে ক্রস দেন সাদ। তবে তা কাজে লাগাতে পারেননি জীবন। পরক্ষণেও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে বাংলাদেশ। তবে এই ধাপে আর গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে ১-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যান স্বাগতিকরা।

হাফ টাইম থেকে ফিরে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে নেপাল। বাংলাদেশ শিবিরে ঝটিকা অভিযান চালায় তারা। তবে সাফল্য পায়নি দলটি। কেউই আলোর মুখ দেখেনি।

ম্যাচের শেষদিকে রক্তচক্ষু ধারণ করে বাংলাদেশ। ৭৬ মিনিটে বজ্রগতির ফ্রি-কিক নেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তা নেপালি গোলকিপারের গ্লাভসও স্পর্শ করে। কিন্তু ক্রসবারে লেগে বল বাইরে চলে যায়।

৪ মিনিট পর আর থামানো যায়নি বাংলাদেশকে। স্কোরলাইন ২-০ করেন বদলি ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল। বাম প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় নেপালের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন। এরপর ডান পায়ের বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এতে বিজয়ী বেশে মাঠ ছাড়েন জেমি ডের শিষ্যরা।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: নেপালকে, ফুটবল, বাংলাদেশ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 3 =

আরও পড়ুন