পানছড়ির দর্জিদের নির্ঘুম সময় পার

শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা সদর বাজারের দর্জিদের কথা বলার সময় নেই। প্রতিটি মুহুর্ত তারা পার করছে ব্যস্ততার মাঝে। টেইলার মাস্টারের কার্টি-কুটিং শেষে সাপ্লাই দিচ্ছে সহযোগীদের। আর সহযোগীরা হাত ও পায়ের নিখুত কারিগরিতে বানিয়ে তুলছে শার্ট, পেন্ট, সেলোয়ার-কামিজ ও পাঞ্জাবীসহ নানান বাহারী পোশাক। সেলাই শেষেই এসব পোশাক ঝুলিয়ে সাজানো হচ্ছে দোকানের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য।
এরি মাঝে দিন যতই ঘনিয়ে আসঝে ততই উকি-ঝুঁকি দিয়ে এগিয়ে ঈদুল ফিতর। তাইতো সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত দর্জিরা নিজেদের ব্যস্ত রাখছে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল পোশাক তৈরীতে। পানছড়ি বাজারে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫/৩০টি টেইলারিং দোকান রয়েছে। এসব দোকানে এখন শুধু মেশিনের ঝন-ঝনানি শব্দ। রাত যতই ঘনিয়ে আসে মেশিনের ঝন-ঝনানি ততই ভেসে আসে রাতে ঘুমিয়ে থাকা দোকানীদের কানে।
সরেজমিনে পানছড়ি বাজারের বিভিন্ন দর্জি দোকানে ঘুরে কথা বলে জানা যায়, গত বারের চেয়ে এবারের ঈদের বাজার বেশ জমজমাট। তবে ১৫ রমজানের পর কোন অর্ডার নেয়া হচ্ছে না। চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার নেয়া শেষ এখন চলছে শুধু তৈরীর কাজ।
পানছড়ি বাজারের গৌরি শংকর বস্ত্রালয় অ্যান্ড টেইলার্স, ঝর্ণা টেইলার্স, এপেক্স টেইলার্স, মুন্নি টেইলার্স ও জননী টেইলার্সের এর সত্বাধিকারীরা জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যথেষ্ট অর্ডার পড়েছে। সেলাইয়ের দামও আগের চেয়ে ভালো বিধায় কারিগররা আনন্দ পাচ্ছে কাজ করে। বর্তমানে ছেলোয়ার-কামিজ ২৫০, পেন্ট-শার্ট ৫৫০ ও পাঞ্জাবীর সেলাই মূল্য ৩৫০ টাকা দরে চলছে বলে জানান ঝর্ণা টেইলার্সের মালিক আক্তার হোসেন।
তাছাড়া বর্তমানে সেলোয়ার-কামিজের সাথে নানান মডেলের কেটালগ থাকার ফলে সেলাই করতে হিমশিম খেতে হয় বলে জানান কারিগর কেমং মারমা, সাদ্দাম হোসেন, মনির, সজল দে ও বশির উদ্দিন। আর একটু উল্টা-পাল্টা হলেতো কাস্টমারের কাছে হাজারো জবাবদিহিতা তার সাথে নাকানি-চুবানিতো আছেই বলে মুচকি হাঁসি। প্রতিটি দোকানে রাত ১/২টা পর্যন্ত চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সেলাই কাজ।
পানছড়ির বিভিন্ন ফুটপাত ও দোকান মিলে প্রায় শতের কাছাকাছি রয়েছে সেলাই কারিগর। তাদের এই ব্যস্ততম সময় আর অল্প কয়দিনের। হয়তো ঈদের দিন রাতেই মালিকের সাথে হিসাব-নিকাশ শেষে প্রিয়জনদের জন্য ক্রয় করবে তাদের পছন্দের পোশাকাদি আর নিজেরা নিবে স্ব:স্তির নি:শ্বাস আহ্ একটি মাস কি কষ্ট্ইনা করেছি।

















