পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র বানানোর জন্যই পাহাড়ীরা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছে

images ববব

 মো: শামীম উদ্দিন :

 পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক দশমাংশ । ৫০৯৩ বর্গমাইল আয়তনের পার্বত্য চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ও বান্দরবান এই তিনটি জেলা নিয়ে গঠিত । ৫২ ভাগ বাঙ্গালী ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১৩টি উপজাতির সমন্বয়ে ৪৮ ভাগ উপজাতি জনসংখ্যা অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রাম অপার সম্ভবনার এক ভূমি। দীর্ঘ দিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশী বিদেশী ষড়যণ্ত্র চলছে,যার মাত্রা বর্তমানে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে । বর্তমানে উপজাতিরা জাতিসংঘ থেকে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য নিজেদেরকে আদিবাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জোর প্রচেষ্টা  চালাচ্ছে । উপজাতিরা ভাল করেই জানে তারা আদিবাসী নয় তারা উপজাতি,শান্তিচুক্তিতে ও তারা নিজেদেরকে উপজাতি হিসেবে পরিচয দিয়েছে, কিন্তু আজ তারা দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নতুন করে নিজেদেরকে আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যেমনটি হচ্ছে শিয়ালের গায়ে বাঘের চামড়া লাগিয়ে মিথ্যা বাঘ হওয়ার চেষ্টা । আমরা বাঙ্গালী আমাদের জন্মলগ্ন থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের পরিচয় একটি, আমরা বাঙ্গালী। সুবিধা আদায়ের জন্য আমরা আমাদের এই পরিচয়কে যেমন যখন তখন পরিবর্তন করার চেষ্টা করাটা নিন্দনীয়,  অসাংবিধানিক ও অপরাধযোগ্য, ঠিক উপজাতিদের আদিবাসী করার চেষ্টাও  নিন্দনীয়, অসাংবিধানিক ও অপরাধযোগ্য, শান্তিচুক্তির ধারা ভঙ্গকারী হিসেবে তা রাষ্ট্রদ্রোহীতার শামিল ।

উপজাতি ও আদিবাসী শব্দের মধ্যকার বিতর্কের কারণ জানতে হলে আগে উপজাতি ও আদিবাসী সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দরকার । উপজাতি শব্দটির আভিধানিক অর্থ কিছু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমষ্টি । আর আদিবাসী শব্দের অর্থ হল আদি থেকে যে জাতি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করে আসছে অথবা ভূমি সন্তান, ইংরেজিতে যাকে বলে Aborigine or aboriginal people । ড.জিল্লুর রহমান সম্পাদিত এবং বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত ইংরেজী বাংলা অভিধানে aboriginal বলতে ওই মানুষ ও প্রাণীকে বুঝিয়েছেন,যারা আদিকাল থেকে একই স্থানে বসবাস করছেন ও পরিচিতি পেয়েছেন । অন্য দিকে Oxford advanced Learner’s Dictionary তে Aboriginal মানে A member of race of people who are the original people living in a country, especially in Australia/Canada (Sixty Edition :Edited by Salley Wehmeir: Oxford university press :2001-2003). Webster new world dictionary- তেও একই বিষয়ে আরো স্পষ্ট করে বলা হয়েছে- The first people known to have lived in a certain place or region which was not under anybody’s control/possession are to be termed as aborigines of adivashis.

উপজাতিয় নেতৃবৃন্দ, কিছু বামপন্থী বুদ্ধিজীবী, উপজাতিদের কিছু দালাল, বিদেশী মদতপুষ্ট কিছু বাঙ্গালী রূপী শয়তানসহ অনেক উপজাতি দাবি করছে তিন পার্বত্য জেলার উপজাতিরা হচ্ছে আদিবাসী ।কিভাবে তারা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছে? সে প্রশ্ন পার্বত্যবাসীর, সুশীল সমাজের, দেশপ্রেমিকদের, ছাত্র সমাজের, সকল স্তরের জনগন সহ সরকারের । কারণ উপজাতিরা এই এলাকায় পার্শ্ববর্তী দেশ বার্মা, চীন, ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা থেকে সেই দেশের সরকার কর্তৃক তাড়িত হয়ে আমাদের বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে ঠাই নিয়েছে। উড়ে এসে জুড়ে বসে তারা দাবি করছে আমরা এই এলাকার আদিবাসী আর বাকীরা সবাই বহিরাগত, অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় পার্বত্য এলাকার আসল আদিবাসী বাঙ্গালীরা। অন্যদিকে তিন পার্বত্য জেলার ইতিহাস ও সমগ্র বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে তিন জেলার ১৩টি উপজাতি চাকমা, মগ, মুরং, কুকি, খুমি, বনজোগী, পাংখো, লুসাই, তংচঙ্গা, বোমাং, রাখাইন, খিয়াং, ত্রিপুরা মূলত ১৬০০-১৯০০সালের মধ্যে বিভিন্ন জায়গা/দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে অত্র অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।

চাকমারা কোথা থেকে এসেছে তা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উৎস থেকে আমরা পাই। লেখক কর্ণেল ফেইরি ‍‍‍“The History of Barma” নামক  গ্রন্থের ৩৯ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন চাকমারা এক সময় ব্রম্ম দেশে ছিল। ব্রম্ম দেশটি বর্তমানে মায়ানমার নামে পরিচিত। এছাড়া ১৭৮৭ সালের ২৪ জুন ব্রম্ম রাজ কর্তৃক চট্টগ্রামের শাসনকর্তাকে লিখিত এক চিঠি থেকে একটি সঠিক ইতিহাস বের হয়ে আসে। তা হল – চাকমারা ব্রম্ম দেশে শান্তি ভঙ্গ করে, রাজশক্তি অবমাননা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পালিয়ে আসে এবং সেখানে বসবাস শুরু করে এবং তারা ডাকাতি বৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। আর এই জন্য ব্রম্ম রাজা তৎকালীন চট্টগ্রামের শাসনকর্তাকে লিখিত চিঠির মাধ্যমে তার দেশের বিতাড়িত ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর জন্য আবেদন করেন । এই ঐতিহাসিক চিঠির মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, চাকমারা এই অঞ্চলে আদিবাসী নয় বহিরাগত। তাছাড়া ইতিহাস থেকে আরো জানা যায় যে, চাকমারা মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভুত যারা মূলত: দক্ষিণ চীনের ইউনান প্রদেশের আদি অধিবাসী। তাদের উগ্রবাদী আচারণ, স্বেচ্চাচারীতায় অতিষ্ঠ হয়ে তৎকালীন চীন সরকার তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করে দেয়। সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে চাকমারা থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছিল, কিন্তু থাইল্যান্ডের রাজাও তাদেরকে বিতাড়িত করলে তারা মায়ানমারে আশ্রয় নেয়। ১৭৮৪ সালে বার্মা যুদ্ধে মগদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে ইংরেজদের পরোক্ষ সহযোগিতা নিয়ে চাকমারা পার্বত্য চট্টগামে বসবাস শুরু করে। কুকী গোত্রের উপজাতিরা যেমন:বোমাং, লুসাই, পাংখো, বনজোগী, মুরং, খুমিরা মায়ানমার, চীনের বিভিন্ন প্রদেশ, ও উত্তর ভারত হতে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করে। এরপরে বসতি স্থাপন করে ত্রিপুরা গোষ্ঠীর বিভিন্ন উপজাতি যেমন: রাখাইন, খিয়াং. ত্রিপুরা, তংচঙ্গারা।

উপরের আলোচনা এটি সুস্পষ্ট ভাবে প্রতিয়মান হয় যে, বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের বসবাস, আদিবাসীদের নয়, শুধুমাত্র জাতিসংঘ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র বানানোর জন্য তারা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছে । কাকের গায়ে ময়ূরের পেখম লাগালে যেমন কাককে ময়ূর বলা যাবে না তদ্রুপ উপজাতিরা যাই কিছু করুক, বলুক না কেন তাদেরকে আদিবাসী বলা যায় না, যাবে না। সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে যে সব ব্যক্তি, পত্র পত্রিকা, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া উপজাতিদের আদিবাসী করার অপপ্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা করে তাদের অচিরেই বিচার করা দরকার।

আজ পার্বত্য চট্টাগ্রাম আলাদা একটি রাষ্ট্র বানানোর জন্য ভারত অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে উপজাতিদের সহযোগিতা করছে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে একশটির (১০০টির) বেশি খ্রিস্টান মিশনারি চাকমাসহ সকল উপজতিদের খ্রিস্টান বানানোর কাজে ব্যস্ত। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন- সি.এইচ.টি কমিশন, ইউ.এন.ডি.পি ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে চাকমাদেরকে আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করে মধ্যপ্রাচ্যের ঈসরাইল রাষ্ট্রের মত পার্বত্য চট্টাগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করছে, যা পার্বত্য চট্টাগ্রামে কর্মরত এনজিও সংস্থাগুলোর প্রতিদিনের কর্মকান্ড থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয়।

 পার্বত্য চট্টগাম নিয়ে যে ধুম্রুজালের সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের জন্য কিছু পরামর্শ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) উপজাতিদের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত শিক্ষা-দীক্ষায় অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে সকল ক্ষেত্রে পিছিয়ে বাঙ্গালীদের সকল ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

২)অতিদ্রুত চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্ত্র মুক্ত করা। সন্তু বাহিনীর কাছে কেন অস্ত্র আছে? সেই অপরাধে, শান্তিচুক্তির শর্ত ভঙ্গকারী হিসেবে তার উপর রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিয়োগ এনে অতিদ্রুত এর বিচার করা।

৩)শিক্ষা, চাকুরী সকল ক্ষেত্রে উপজাতি কৌটা বাতিল করে বৈষম্যহীন পার্বত্য কোটা চালু করা।

৪)পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত এনজিওগুলোর কর্মকান্ডকে একটি সরকারী ফ্রেমে নিয়ে আসা।

৫)পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশীদের আনাগোনার প্রতি গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা।

৬)পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সীমান্ত এলাকাগুলো সুরক্ষার জন্য কাটা তারের বেড়া নির্মাণ করা, সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা।

৭)বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প বৃদ্ধি করা।

৮)যে সকল উপজাতি প্রশাসনের উচ্চ পদে থেকে নিচু স্তরের উপজাতিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কিয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনে বসে তাদেরকে আশ্র্রয় দিচ্ছে তাদেরকে সনাক্ত করে অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সকল পজেটিভ পদক্ষেপ অতিদ্রুত নিতে হবে, না হয় পার্বত্য চট্টগ্রামের অখন্ডতা বজায় রাখা দুষ্কর হয়ে দাড়াবে।

তথ্যসূত্র:

১)প্রসঙ্গ পার্বত্য চট্টগ্রাম,-সিদ্ধার্থ চাকমা, কলকাতা নাথ ব্রাদার্স।

২)চাকমা, সুগত ১৯৮৩ “চাকমা পরিচিতি” রাঙ্গামাটি বরগাও পাবলিকেশন      

৩)Cap , Lewiun T.H.(ND) – The Hill Tracts of Chittagong and the Pewellers there in.

৪)The History of Barma- Colonel Feiry.

৫)সাম্প্রতিক পত্র পত্রিকা।

♦ মাটিরাঙ্গা থেকে

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

9 Replies to “পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা রাষ্ট্র বানানোর জন্যই পাহাড়ীরা নিজেদেরকে আদিবাসী দাবি করছে”

  1. পার্বত্য চট্টগ্রাম তো আলাদা রাষ্ট্র ছিল। তাই নতুন করে এই অঞ্চলকে নিয়ে “আলাদা রাষ্ট্র বানানোর” প্রশ্ন আসবে কেন? ১৯৪৭ সালে তাকে বেআইনিভাবে পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল। এটা অন্যায়। এই অন্যায়ের প্রতিবিধান দরকার। ঐতিহাসিকভাবে ও আইনগতভাবে এই প্রতিবিধানকে “আলাদা রাষ্ট্র বানানো” বলা ঠিক নয়–অযৌক্তিক।

  2. পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে আদিবাসীরা আলাদা রাষ্ট্র দাবী করে না। আদিবাসী ভিত্তিক দেশ/রাষ্ট্র কোন দেশে আছে? তবে লেখকের এটা জানা দরকার যে, জাতিগত নিপীড়িন হলে কেউ বসে থাকে না। স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে। পাকিস্তান আমলে বাঙ্গালীরা যেভাবে করেছিল। পাহাড়ীদের প্রতি সকল অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবিধানের জন্য কিছু লিখুন। দেশের সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সমর্থন করবে একমাত্র সেটেলার নামক বিশেষ প্রজাতির বাঙ্গালী উগ্র-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ছাড়া।

  3. “আদিবাসী” ও “সেটলার”

    ঐতিহাসিকভাবে ও আইনগতভাবে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ ছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে তা অবৈধ উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন আমাদের দেশে একটা অবৈধ উপনিবেশ স্থাপন করে বসে আসে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই বাংলাদেশ “জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষার” নামে আমাদের বিরুদ্ধে যা কিছু করে, তা সবই বেআইনি এবং সন্ত্রাসী ও দমনমূলক আর জুম্মদের “আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার” বা “পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীনতার” নামে আমরা যা কিছু করি, তা “বিচ্ছিন্নতাবাদ” বা “দেশদ্রোহীতা” বা “সন্ত্রাসী কায্যকলাপ” নয়–তা আমাদের আইনসঙ্গত ও ন্যায়সঙ্গত আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বা স্বাধীনতা আন্দোলন। এবং এই বিশেষ কারনেই আমরা আমাদেরকে “আদিবাসী” আর আমাদের দেশে বসবাসরত মুসলিম বাঙ্গালীদেরকে “বেআইনি বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” বা “সেটলার” বলি।

    ধর্ম ও সভ্যতা

    ব্রাহ্মনধর্ম (আজকাল যাকে ‘হিন্দুধর্ম’ বলা হয়) হোল ভারতবর্ষে প্রথম প্রতিষ্ঠিত প্রাতিস্থানিক ধর্ম। ভারতবর্ষে এই ধর্মের প্রভাব খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৫০০ বছর থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ বছর পয্যন্ত লক্ষ্য করা যায়। বুদ্ধ (৫৬৩-৪৮৩ খ্রিস্ট পূর্ব) তাঁর ধর্ম প্রচারের ফলে এই ধর্মের প্রভাব সমাজে অনেকটা নিস্প্রভ হয়ে পড়ে। শুরু হয় ভারতবর্ষে সামাজিক বিপ্লব ও বৌদ্ধ সভ্যতা।

    বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্ম (নেপালের লুম্বিনি উদ্যান) যীশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৫০০ বছর আগে, অর্থাৎ আজ থেকে (২০১৩ + ৫০০=) ২৫১৩ বছর আগে বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তন হয়।

    খ্রিস্টানধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রিস্টের জন্ম (বর্তমান ইসরাইলের বেথ্যালহেম শহর) হয়েছিল আজ থেকে ২০১৩ বছর আগে, অর্থাৎ আজ থেকে ২০১৩ বছর আগে খ্রিস্টানধর্মের প্রবর্তন হয়।

    ইসলামধর্মের প্রবর্তক হজরত মুহম্মদের জন্ম (বর্তমান আরবের মক্কা শহর) যীশু খ্রিস্টের জন্মের প্রায় ৬০০ বছর পরে, অর্থাৎ আজ থেকে (২০১৩–৬০০=) ১৪১৩ বছর আগে ইসলামধর্মের প্রবর্তন হয়। অর্থাৎ বৌদ্ধধর্মের (২৫১৩–১৪১৩=) ১১০০বছর পরে ইসলামধর্মের আবির্ভাব হয়।

    যীশু খ্রিস্টের জুন্মের ৫০০ বছর আগ থেকে ১২০০ শতাব্দী পয্যন্ত অর্থাৎ প্রায় ১৭০০ বছর (কম সময় নয়) ছিল ভারতবর্ষে বৌদ্ধ সভ্যতার ইতিহাস। এই সময় ভারতবর্ষের (বর্তমান ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিল বৌদ্ধ। হিন্দু ও জৈনরা ছিলেন ধর্মীয় সংখ্যালগু। এখানে একজন মুসলিমও ছিলনা। ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধধর্ম মধ্য এশিয়া (বর্তমান আফগানিস্থান, উজবেকস্থান, কাজাকস্থান, দক্ষিন রাশিয়া, মধ্য প্রাচ্যের কিছু দেশ–যেমন ইরাক, ইরান, সিরিয়া ইত্যাদি), পূর্ব ইউরোপ, তিব্বত, চীন, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, যাবা, সুমাত্রা ও বর্ণীয়ও দ্বীপপুঞ্জ (বর্তমানে ইন্দোনেশিয়া ও মালএশিয়া), বার্মা ও শ্রীলঙ্কায় বিস্তার লাভ করে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশী কাজ করেছিলেন সম্রাট অশোক (খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দী) এবং অগণিত শান্ত ও সোম্য বৌদ্ধভিক্ষু ও পণ্ডিত। এই ধর্ম প্যৃথিবীর যেদিকে গেছে সেদিকে মানুষকে সভ্য করে তুলেছে, দিয়েছে শান্তি, মৈত্রী, করুণা, প্রেম ও প্রজ্ঞার আশ্বাস এবং সঠিক জীবনের অর্থ।

    ১২০০ সালে বখতিয়ার খিলজি বর্তমান বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভারতবর্ষে প্রকৃত মুসলিম সাম্রাজ্য। আরব দুনিয়া থেকে মুহম্মদের আর্মি “এক হাতে তলোয়ার এক হাতে কোরান” নিয়ে এসে জেহাদ (অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ) করতে করতে বর্তমান আফগান্তিস্থান, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ আক্রমণ করে বেদখল করে নেয়। বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের গণহত্যা করে। কেও মারা গেল, কেও পালিয়ে গেল আর যারা বাকী ছিল তাদেরকে জোরপূর্বক ইসলামধর্মে ধর্মান্তরিত করল। নয়তলা এবং ৩০০০ বৌদ্ধ শিক্ষক ও ছাত্র বিশিষ্ট বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দাসহ, বিক্রমশীলা, তক্ষশীলা এবং ভারতবর্ষের সমস্ত বৌদ্ধ মন্দির, শিক্ষা প্রতিস্থান, শিল্পকলা, কারুকায্য ও সভ্যতা ধ্বংস করে দিল। কথিত আছে তাদের আক্রমনে বৌদ্ধধর্মের এত ক্ষতি হয়েছিল যে ভারতবর্ষের মাটীতে বৌদ্ধধর্মের একটা পুস্তকও পাওয়া যায়নি; আজকাল আমরা বৌদ্ধধর্মের যে বই পড়ছি সেগুলো সব তিব্বতী, চীনী, সিংহলী ভাষা থেকে প্রথমে ইংরেজি ও পরে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা গ্রন্থ থেকে পড়ছি। আজকাল আফগানিস্থান, পাকিস্তান, ভারত ও বাংলাদেশে যারা নিজেদেরকে ‘মুসলিম’ বলে পরিচয় দিচ্ছে তাদের পূর্বসুরীরা সবাই বৌদ্ধ বা হিন্দু বা জৈন ছিলেন। আজকাল বাংলাদেশের মুসলিমরা যে ভাষায় কথা বলছেন ও যে লিপিতে লেখা লেখছেন তার উৎস হোল তান্ত্রিক বৌদ্ধ ধর্মীয়গুরু দ্বারা লিখিত ও ভাষিত চর্যাপদ (১০ম শতাব্দী)…পাহাড়পুর, পণ্ডিত বিহার, ময়নামতি সব বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন। আজ তারা ইসলামের কুপ্রভাবে—ধর্মীয় গোঁড়ামির কারনে–তাদের জাতি, ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার উৎস ভুলে গেছেন—জানেন না বা জানলেও তা অস্বীকার করেন! বর্তমান যুগে ধর্মীয় নিয়ম দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করা হয়না। কিন্তু তারা এখনও তাই করছেন! এখনও সেই মধ্যযুগীয় জেহাদ ও বর্বরতা!এটাই তাদের সঙ্গে অন্যান্য সভ্য সমাজের সমস্যার মূল কারণ। তারা পৃথিবীতে একটা অদ্ভুত স্পেসিস! অন্যান্য সমাজ ও সভ্যতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা!

    ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে মুসলিম সাম্রাজ্যবাদ খ্রিস্টান (ব্রিটিশ) সাম্রাজ্যবাদের কাছে পরাজিত হয়। অর্থাৎ প্রায় ৫০০ বছর পর ভারতবর্ষে মুসলিম সাম্রাজ্যবাদের অবসান হয়। ভালই হয়েছে। কারণ খ্রিস্টান সাম্রাজ্যবাদ ভারতবর্ষে না আসলে আজ সেখানে কোন বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন সভ্যতার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যেতনা; খ্রিস্টান সাম্রাজ্যবাদের কারনে বৌদ্ধ, হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বী জনতা ও তাদের সভ্যতা মুসলিম সাম্রাজ্যবাদের জেহাদ থেকে রক্ষা পেল, যেমনটি খ্রিস্টান সাম্রাজ্যবাদের মানবতা বা মানবাধিকার আইনের কারনে জুম্মরা পার্বত্য চট্টগ্রামে মুসলিম সাম্রাজ্যবাদের কড়াল গ্রাস বা জেহাদ থেকে রক্ষা পেয়ে আসছে।

    খ্রিস্টান (ব্রিটিশ) সাম্রাজ্যবাদের সময় (১৭৫৭-১৯৪৭) মোটামুটি ১৮৮০–১৯৪০ সালের মধ্যে পুরাতত্ত্ব ও ভারততত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার ক্যানিংহাম, জেমস প্রিঞ্চেপ, রিডস ডেভিড (স্বামী-স্রী যারা লন্ডনে “পালি টেক্সট সোসাইটি” স্থাপনা করে পুরো ত্রিপক ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করেন),এডউইন আরলন্ড (‘The Light of Asia’-র লেখক যার কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে “গীতাঞ্জলী লেখতে অনুপ্রেরণা যোগায়), ওলডেনবাগ, মাক্সমুলার, উইন্টারননিজ, লা ভিলা পুসিন, সেল্ভিন লেল্ভি, এইচ কার্ন, স্পেঞ্চ হার্ডি, পল চারুস (খ্রিস্টান ফাডার), ফাসবল, শ্রীলঙ্কার অনাগারিক ধর্মপাল, বাংলার রাজেন্দ্রালাল মিত্র, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহারাষ্ট্রের আম্বেদকর প্রমুখ মনিষীগণ না হলে আজও বুদ্ধধর্ম তার জন্ম ও কর্মভুমি ভারতবর্ষের ধ্বংসস্তূপে শায়িত থাকতো–পুনরাবির্ভাব হতে পারত না। তারা না হলে আজ আমরা লুম্বিনি, বুদ্ধগয়া, সারনাথ, কুশিনগর, সাচিস্তূপ, অজন্তা-এলোরা ইত্যাদি কি এবং কোথায় কিছুই জানতাম না। হলিউড ও অনেক হলিউড তারকারা না হলে আজ বৌদ্ধধর্ম এত পশ্চিমাদেশে জনপ্রিয় হতো না। আজ পশ্চিমে যারা খ্রিস্টান তারা নতুন করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করছেন।

    বস্তুতঃ খ্রিস্টান হৃদয় খুব উন্মুক্ত, উদার ও মানবিক। এই হৃদয় শুধু শাসন-শোষণ করেনা–কিভাবে সভ্য হতে হয় ও সভ্য শাসন কায়েম করতে হয় তাও শেখায়। তারা পৃথিবীর যেদিকে গেছে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছে এবং মানুষের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়েছে–যেমন হংকং (প্রাক্তন ব্রিটিশ কলোনি), মেকাউ (প্রাক্তন পরতুগিস কলোনি), প্রেসিডেঞ্চি কলেজ (কলকাতা), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বর্তমান ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ ব্যাবস্থা, আইন-ব্যাবস্থা ইত্যাদি। তাই তারা আজ পৃথিবীতে সবচেয়ে উন্নত, উদার, মুক্ত, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুজাতিক সমাজ। মুসলিম সমাজ আমাদেরকে কি শিখাচ্ছে আর কি দিচ্ছে? শুধু গনহত্যা, নারীধর্ষণ, ভূমি-বেদখল ও জেহাদি শিক্ষা।

    Sub-continent: Historical Timeline

    1. Vedic (Hindu) period: 1500 BCE – 6th century BCE.
    2. The Buddha was born in 563 BCE.
    3. Buddhist period: 6th century BCE – 12th century CE.
    4. Muhammad founded Islam in the 8th century CE in Arab and his army (‘jehadis’) invaded the Sub-continent (Afghanistan, Pakistan, India and Bangladesh together) from the 9th century CE to the 13th century CE and founded Mughal Empire in parts of the Sub-continent and forcibly converted Buddhists and Hindus to Islam. The Mughal Empire collapsed with the defeat of Sirajudollah, Nawab of Bengal, to the East India Company (the British) at the Battle of Palasi in 1757. There is no more surviving Mughal in the Sub-continent except their ruins.

    Bengali Muslims of Bangladesh are decedents of Buddhist and Hindu population of the Sub-continent with kamar (iron tool-making), kumar (pottery-making), chamar (shoe-making), dhom (fishing) etc professions. They were forcibly converted into Islam and made subjects of the Mughal Empire. They have nothing to do with the Mughal line of blood. So the history of the origin of the Bengali Muslims is not and cannot be linked with the Mughals.

    One does not need to be an intelligent person or a great historian to understand the answer to the question: who are the sons of soil or indigenous peoples in CHT? The easiest and the most scientific answer to this question is found in the census report/demographic statistics of this region. During the partition of the Indian Sub-continent in 1947, the ratio of Jumma and non-Jumma population of CHT was 98:2, that is out of every 100 persons 98 were Jummas and 2 were non-Jummas. There was not even a single non-Jumma (permanent resident) in CHT when the region was brought under the British colonial rule in 1860. There is no archaeological or literary evidence or otherwise that suggests the presence of Bengali Muslims in Chittagong Hill Tracts before 1750. While the Jummas have been living in greater Chittagong Hill Tracts (CHT, Chittagong and Cox’s Bazaar together) since 7th century CE. Therefore, who are the indigenous peoples of CHT? The answer is the Jummas.

    History of Chittagong

    Historically, Chittagong and Cox’s Bazaar belong to the Jumma people. Places like Chakmakul, Rajanagar, Ranirhat etc and ruins of Buddhist temples, like Pandit Vihara still witness to this fact. Pandit Vihara of Chittagong flourished in the 10th century AD was a great seat of Tantrik Buddhist learning. Many Chakma Raulis or Luris (tantrik priests) are believed to have lived in this temple.

    Chittagong was conquered by an Indian origin Buddhist king of Arakan (Myanmar), Sola Sinha Chandra, in 953 AD [Ahidul Alam, 1982, p.2]. In order to commemorate his victory over the region, he erected a pillar inscribed with these words: “chit-tou-goung”, i.e. a place gained by war [Natun Chandra Barua, 1986, p. 29], the name that has given birth to what is now called “Chittagong”. According to Mahbabul Ul-Alam, “chit-tou-goung” means “it is unfair to fight”. Chittagong went to the control of the king of Tripura, Dhanya Manikya, in the 15th century AD (Kaliprasanna Sen, 1336 Tripura Era, P. 32). The Arakanese king again took over the region from the Tripura king in the same century. The Portuguese’s control over the region in the 16th century was short-lived. Chittagong became a part of the Mughal Empire in 1666 when the Nawab of Bengal, Shaista Khan, invaded it. This was the very period when Jummas of Chittagong started moving towards Chittagong Hill Tracts to avoid the atrocities of the Mughal ruler and the famous Chakma ballad “Chadigang Chhara Pala” [Migration (of Jummas) from Chittagong] was composed. Chittagong Hill Tracts was never a part of the Mughal Empire for its geographical and strategic advantages. The British colonized Chittagong and Chittagong Hill Tracts respectively in 1760 and 1860 following the defeat of Nawab Sirajuddaula of Bengal at the Palasi Battle in 1757.

    Distortion of CHT History

    You may remember in the recent past, the Bangladesh delegation at the UN was rebuked and disgraced for making a self-embarrassing attempt to come up with a unilateral definition of “indigenous peoples”. Bengali Muslim writers have been trying to distort the history of CHT. While doing so, they identify Bengali Muslim settlers to be “son of soil” or “indigenous people” and the Jumma indigenous people to be migrants from Arakan, Myanmar in the region. They do not know Chittagong and Cox’s Bazaar too, historically, belong to the Jumma people or to the kings of Arakan, Myanmar. What they say “history” (of CHT) is not at all history in the true sense of the term but raping of the history. It is an academic conspiracy to indoctrinate and legitimize Bangladeshi brutal colonial regime and jehad against the Jumma indigenous people.

    Muslim Bengalis should know that before the 12th century CE there was not even a single Muslim in the Indian Sub-continent. The ancestors Bengali Muslims were either Buddhists or lower caste Hindus during the Buddhist period (6 century BCE – 12th century CE) in the Sun-continent. They were forcefully converted to Islam by the jehadis of Muhammad of Arab in the 13th century when they arrived here.

    The total population of Bangladesh were about 7 crore, including 30% non-Muslims, in 1971; now the figure has gone up 18 crore within 41 years—an increase of 11 crore in 41 years! With polygamy and illiteracy, they turned out to be a man-producing factory! In the light of this fact, I assume, as there is no demographic data, the total population of Bengali Muslims of what was then called “Bengal”, including parts of what is now called West Bengal, would have not been more than 50-60 lakh in 1860—153 years ago from today. They were basically concentrated in Dhaka, Murshibadbad and its peripheries. Control of Buddhist Chittagong went from the kings of Arakan to the Nawab of Bengal in 1666. It was only from that time Bengali Muslims started moving towards Chittagong and Cox’s Bazaar hitherto populated by mostly the Chakmas and the Maramas. That is why historically, Chittagong and Cox’s Bazaar belong to the Jummas or to the kings of Arakan. So I will not wonder if Myanmar reclaims Chittagong and Cox’s Bazaar as their territories from Bangladesh sometime in future.

  4. আদিবাসী ও রাষ্ট্র

    একটা আদিবাসীকে “আদিবাসী” হিসেবে স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হবে বা রাষ্ট্র থেকে সেই আদিবাসী আলাদা হয়ে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করবে–এমন কোন কথা নেই। নরওয়ে সামি আদিবাসীদের “আদিবাসী” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারপরেও সামিরা নরওয়ে থেকে আলাদা হয়ে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করার প্রয়োজন অনুভব করেন নি। বরং নরওয়ের সঙ্গে থেকে তারা নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেন। তবে রাষ্ট্র যদি অত্যাচারী হয় এবং তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে সেই রাষ্ট্রের যে কোনো জনগোষ্ঠী রাষ্ট্র থেকে আলাদা হয়ে একটা আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করতে পারে। যেমন পাকিস্তানের বাংগালী মুসলিমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে “বাংলাদেশ” নামে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করেন।

  5. চাকমা রাজা ব্যরিস্টার দেবাশীষ রায়ের কিছু বক্তব্য তুলে দরছি:

    আদিবাসীদের স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের কাঁধে কি এমন অতিরিক্ত দায়িত্ব বর্তাবে যা সইতে পারবে না, তা বুঝতে পারি না। সরকার আদিবাসীদের যেন না দেখার ভান করছে। তারা যেন পাহাড়ে জুমচাষ দেখে না। বিস্ময়কর হলো, এতো বঞ্চনার মাঝেও আদিবাসীরা নিজস্ব ঐতিহ্য আর স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। টিকে আছে। আশা ছেড়ে দেয়নি।

    আমাদের স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রের কাঁধে এমন কি দায়িত্ব বর্তাবে? স্বীকৃতি না দিতে যেসব অজুহাত দেখানো হয়, তা কারণ হতে পারে না। বলা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথা চাড়া দেবে। কীভাবে এমন কথা বলা হয় বুঝি না। আমাকে রাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটি হবে সম্পৃক্ততাবাদ। আমি সেটি মনে করি। আমার নাম যদি সংবিধানে আসে তবে তো আমি রাষ্ট্রের সঙ্গে মিশে গেলাম। তাই নয় কি?

    আদিবাসীরা তাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখেনি। রেখেছে রাষ্ট্র। তবে রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, জাতীয় আইনে যেটিই বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে আদিবাসী জাতি হিসেবেই আমরা পরিচিত। আমরা নতুন কিছু চাই না। এখন নতুন রাষ্ট্র গঠনে অন্তর্ভুক্ত করুন। তবে প্রেক্ষাপট অনুসারে।

    যারা প্রথাগত আইনে চলছে, দলিল নেই, গোষ্ঠীগত বসবাস, তারাই আদিবাসী। আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অধিকার ছাড়াও সমষ্ঠিগত অধিকার রক্ষা করে চলতে চাই। এরাই তো আদিবাসী। তবে আমাকে মেনে নিলেই কি সব ছেড়ে দিতে হবে? পাংখোয়ার কেউ কি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হয়ে যাবে? হবে না। মেনে নিলে সরকারের উন্নয়ন নীতিতে শুধু মনে রাখতে হবে। এর থেকে বেশি দিতে হবে না। পদমর্যাদা মন্ত্রী হতে হবে না, শুধু দৃষ্টিভঙ্গীটা পাল্টাতে হবে।

    এতো ঝুঁকি আর প্রতিবন্ধকতা মেনে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমার প্রজাদের সন্তানেরা স্কুলে যাচ্ছে। যারা ক্ষুদ্র জনসংখ্যার জাতি তাদের একটু সমস্যা হয়। তাদের আত্মীয়-স্বজন কম। তাদের সুযোগ কম, সামাজিক বন্ধন কম। তাদের জন্য আবাসিক সুবিধা করতে শহরে হোস্টেল থাকা দরকার। যাতে সেখানে থেকে পড়াশুনা করতে পারে। এরপরও সৎ সাহস রয়েছে। আদিবাসীদের জীবনটাও যেন একটা সংগ্রাম।

    বিগত ১০ বছর ছাড়া সারা পৃথিবীতে যারা আদিবাসী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে, তাদের কাছে যদি জানতে চাওয়া হয়, আপনাদের সংবিধানে কয়টি শব্দ দিয়েছেন অথবা সংবিধান প্রণয়নের সময় রাষ্ট্র পরামর্শ করেছে কি না। উত্তর হবে, না।

    ১৯৭২ সালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। উনি বলেছিলেন, চাকমা বাঙালি হতে পারে না। আমার জাতীয় পরিচয় বাঙালি হতে পারে না। সেটিই ঠিক। তখন সেটি মানা হলে আজ সমস্যা হতো না। আইনেও আছে আদিবাসী। ক্ষুদ্র, নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনেও ভেতরে বলা আছে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে আদিবাসী বোঝাবে এটা আমরা লিখিনি। সাংসদরা দিয়েছেন। বর্তমান সরকারই করেছে।

  6. পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রথম যখন বাঙ্গালী ছাড়া ১১টি জাতি বসতি স্থাপন করেছিল তখন আদিবাসিন্দা হিসাবে ছিল বাঘ, ভালুক, হাতি, বানর ইত্যাদি পশু, পাখি ও গাছ-পালা। এই সত্যটি অনেকের মনেই জ্বালা ধরায়। তাই একটু উল্টা-সিধা বয়ান দিয়ে মানসিক স্বান্তনা খোজার চেষ্টা করে।

  7. লেখক আপনি লেখাতে যে ভাবে বৌদ্ধ ধর্মের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন তাতে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয় যে বাঙ্গালীদের শুধুমাত্র মুসলমান হিসেবে চিহ্নিত করে আপনি আপনার মন্তব্য দিয়েছেন । আসলে এখানে আপনার ভুলটি হল আপনি বাঙ্গালী ও মুসলমানমেরকে এক ও অভিন্ন বলে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু বাঙ্গালী – মুসলমান শব্দ দুটি হচ্ছে সম্পর্ণ ভিন্ন । প্রকৃতপক্ষে বাঙ্গালী বলতে বাংলাদেশের ভূখন্ডে বসবাসকারী সকল জাতি সম্প্রদায়কে বাঙ্গালী বলা হয় । যারা ভারতীয় উপমহাদেশের আদি র্নূগোষ্ঠী হতে বংশ পরস্পরায় সৃষ্ট । আর ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের উৎপত্তি হচ্ছে,আরব মুসলমানরা প্রাগঐতিহাসিক কাল থেকে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে এসে ব্যবসা বাণিজ্য্ করত এবং তারা এখানকার রমণীদের বিবাহ করে ধর্মে দীক্ষিত করে ইসলাম ধর্মের প্রসার করতে থাকে তাছাড়া আরো নানা ভাবে ইসলাম র্ধম প্রসারতি হয । পরবর্তীতে ৭১১ সালে মুহাম্মদ বিন কাশিম কর্তৃক সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমানরা ভারতীয় উপমহাদেশে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় । ।আপনি সিন্ধু অভিযানের কারণ,ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে পড়লে বুঝতে পারবেন আদি ভারতীয়দের সাথে মিশে ভারতীয় উপমহাদেশের আজকের এই মুসলিম সমাজ । আর যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তারা হিন্দু, বড়ুয়া, সাওতাল ইত্যাদি গোষ্ঠীসম্প্রদায়ে বিভক্ত,তবে আপনারা যারা উপজাতিরা তারা কিন্তু এর অন্তর্ভুক্ত নন ,কারন আপনাদের আদি নিবাস কখনো ভারতীয় উপমহাদেশে ছিলনা, প্রগঐতিহাসিক কালের ইতিহাস ও এই সমযের সমসামযিক ইতিহাস থেকে জানা যায় আপনাদের আদি নিবাস ছিল চীনের ইউনান প্রদেশ । তবে আপনাদেরকে আদিবাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যে সব দালাল আমেরিকা সহ পশ্চিমাদের তাবেদারী করছে তারা আন্দোলনে নতুন মাত্রা হিসেবে ইদানীং নানা লোভ দেখিয়ে সাওতালদের আপনাদের পক্ষে টেনে নিয়েছে ।আপনি আপনার লেখায় প্রাগঐতিহাক কালে এখানে কারা বসবাস করেছে তার কথা উল্লেখ না করে ইতিহাসকে মাঝ পখ থেকে তুলে ধরেছেন । যা কখনো গ্রহণ যোগ্য নয় । আপনাকে আমার পরামর্শ হচ্ছে আপনাদের আদি উৎস জানতে আপনাদের লেখকদের লিখিত গ্রন্থ ১)প্রসঙ্গ পার্বত্য চট্টগ্রাম,-সিদ্ধার্থ চাকমা, কলকাতা নাথ ব্রাদার্স।২)চাকমা, সুগত ১৯৮৩ “চাকমা পরিচিতি” রাঙ্গামাটি বরগাও পাবলিকেশন । দুটি ভালভাবে পড়ে নিবেন । আর দয়া করে এই সব বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত খাকবেন

  8. Ami Sob Somprodayer Kotha Bolbona Bcz Amar Tader niye ato porashuna nei bt Tripura People er kotha akhane lekha hoyeche…Jini lekhati likheshen ami ta ke Bolbo Apni Tripura Rajader History Poren abong Tader Niye Likhen.. R na jene thakle Janar chesta karun……

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 + ten =

আরও পড়ুন