পাশের ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নিমিষেই শেষ স্ত্রী ও ৪ সন্তান

fec-image

“ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, তোরা কেউ আজ বাইরে বেরোস না”— সন্তানদের এই কথাটুকু বলে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বাজারের উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মঈনুদ্দিন ওয়াজিদ আলী শাহ। তিনি জানতেন, পাশের চার তলা অবৈধ ভবনটি বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়েছে। তাই স্ত্রীকে বলেছিলেন, “আজকের রাতটা কোনোমতে কেটে যাক, কাল সকালেই আমরা এই ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাব।”

কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস, মঈনুদ্দিনের পরিবার আর সেই আগামীকালের সকালটি দেখার সুযোগ পায়নি। তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাশের বহুতল ভবনটি। মুহূর্তের মধ্যে মঈনুদ্দিনের টিনের চালের ঘরটি পিষে দিয়ে কেড়ে নেয় তাঁর স্ত্রী, চার সন্তান এবং খেলতে আসা প্রতিবেশীর এক নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ।

মুম্বাইয়ের মানখুর্দের জনতা নগর এলাকায় গত দু-বছর ধরে সপরিবারে ভাড়ায় থাকতেন উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার বাসিন্দা মঈনুদ্দিন। পেশায় দিনমজুর মঈনুদ্দিনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মুম্বাইয়ের সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে যখন চারপাশের পরিস্থিতি বিপর্যস্ত, তখন সন্তানদের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন