পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

fec-image

শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটসহ নানা সীমাবদ্ধতাকে মোকাবেলা করে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শিক্ষার গুনগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি বনানয়নেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিদ্যালয়টি। কর্মরত শিক্ষকদের আন্তরিকতায় ঝড়ে পড়া রোধ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ পারভেজ।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার দূর্গম এলাকার গকুলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ পারভেজ আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে তথ্য-প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের অপরাপর শিক্ষকদেরও আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।

বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে তথ্য প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দিতে ইতোমধ্যে সকল শিক্ষকই ব্যাক্তি উদ্যোগে ল্যাপটপ ক্রয় করেছেন। বর্তমানে ৫ম শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের মাঝে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার ছড়িয়ে দিতে উপজেলার কোন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এটিই একমাত্র স্কুল বলে জানা গেছে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কি:মি: দুরের বিদ্যুতবিহীন পাহাড়ি পল্লীতে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে।

প্রাথমিক সেকশনে ২৩০ জন ও জুনিয়র সেকশনে (৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণি) ১০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ পারভেজ।

তিনি বলেন, বিদ্যুতবিহীন একটি পাহাড়ি পল্লী গকুলপাড়া। যে জনপদ শিক্ষার আলো থেকে বরাবরই পিছিয়ে। সেখানে অবহেলিত পাহাড়ি জনপদে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে এখানে কর্মরত ৮জন শিক্ষক। বিদ্যালয়টিতে বরাবরই পাশের হার শতভাগ। এছাড়াও ২০১৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় তিন জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ লাভ করেছে।

বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের শেষ দিকে মো. মাসুদ পারভেজ প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে পাল্টে যেতে থাকে বিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা। শুরু হয় শিক্ষার মানোন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ। বিদ্যালয়ের আঙিনাসহ আশে পাশে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে সবুজায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করে তুলতে মা সমাবেশসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

ইতোমধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ ও খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনসহ একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভুয়সী প্রশংসা করেছেন। নানামুখী পদক্ষেপকে অনুকরনীয় বলেও মনে করেন এ সব কর্মকর্তা।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × 2 =

আরও পড়ুন