মাতারবাড়িতে হচ্ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র

fec-image

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক ও পরিপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক অঞ্চল। কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট সাড়ে ৩ হাজার একর ভূমির ওপর গড়ে উঠছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাশাপাশি ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর। সেই সঙ্গে থাকবে অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

কয়েক বছর আগেও পুরো এলাকা ছিল অনেকটা পরিত্যক্ত চরাঞ্চল এবং জলাভূমি। আবার কোথাও ছিল সাগরের অংশ। তবে বিশাল এ এলাকা নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা পাল্টে দিয়েছে পুরো মহেশখালীর চিত্র।

এজন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক। কোনো রকম জটিলতা ছাড়াই এগিয়ে চলছে এ মেগা প্রকল্পের কাজ। ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নতুন একটি নৌ-পথও তৈরি করা হয়েছে। অনেকটা সিঙ্গাপুরের আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে এ বাণিজ্যিক জোন।

ব্যাপক উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি নানা ধরনের প্রকল্পের কারণে অনগ্রসর এ এলাকায় গত দুই বছরে সব ধরনের ভূমির দাম ১০০ শতাংশ হারে বেড়ে গেছে।

২০২৩ সালের মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

সম্প্রতি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রকল্প পরিদর্শনে এসে বলেন, আমরা বাস্তব সিঙ্গাপুর দেখতে চাই। আমরা যেটার কথা বলি সেটাই যেন এ মাতারবাড়ি হতে যাচ্ছে।

মহেশখালীর মাতারবাড়ি এবং ধলঘাট অংশে সাগরে বিশেষভাবে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভূমির কাঠামো। চলছে নানা ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কাজ। মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্মাণের জন্য সাগর থেকে তোলা হয় বালি। তাতেই ৩৬ হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাকআপ হিসেবে গড়ে উঠছে আরও অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার নানা প্রকল্প। সেই সঙ্গে ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হচ্ছে নতুন কয়েকটি নান্দনিক সড়ক।

এদিকে বিশাল এই মেগা প্রকল্পে কর্মরত রয়েছে চীন ও জাপানের অন্তত ৬০০ প্রকৌশলী এবং কর্মচারী। তাই পুরো এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ নিয়ে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার রতন কান্তি দাশ বলেন, ‘নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সব সময় সজাগ রয়েছি।’

এদিকে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামিরুল ইসলাম প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + six =

আরও পড়ুন