মানসিক হাসপাতালের দুঃসহ স্মৃতিচারণ সালাহউদ্দিন আহমদের

fec-image

গুম ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুমের শিকার হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আজ আমি নিজেও অশ্রুসিক্ত, বাকরুদ্ধ। কি কথা বলব আপনাদের সাথে। সুমনের মা হাসছেন। বললাম মা কেমন আছেন। সেই হাসির মধ্যে যে পর্বতসম যে বেদনা, সেটা আমরা বুঝি। এ হাসি মুক্তির, মুক্তির আনন্দের। সন্তানের বিনিময়ে ফিরে পাওয়া ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের। আমরা জানি সবাই, ‘মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান, লেখা আছে অশ্রু জলে’, ‘যাঁরা স্বর্গগত তাঁরা এখনও জানেন স্বর্গের চেয়ে প্রিয় মাতৃভূমি’, এটি গান, কবিতা। কিন্তু এটি আমাদের বাস্তবতা। আমি মহান রব্বুল আলামীনের দরবারে হাত তুলে মোনাজাত করতাম সেই মৃত্যু গুহায় যে, আমার কবরের ঠিকানা কি আমার ওয়ারিশরা পাবে না। সিলনের সেই মানসিক হাসপাতালের সেই বন্দিশালায়, যেটি কলাপসিবল গেইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা, আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম, পাগল হিসেবে আমার জীবন অবসান হবে, রব্বুল আলামীন আমার সন্তানরা, আমার পরিবার কি আমার কবরের ঠিকানা পাবে না? জিয়ারত করতে পারবে না? আল্লাহ মোনাজাত কবুল করেছেন। লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে যেমন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, সহশ্র সহশ্র আত্মদানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। এমন তো কথা ছিল না। গুম, খুনের চেয়েও একটি ভয়ঙ্কর যারা লাশ ফিরে পেয়েছে, তাদের অনেকের হাতে ছিল হাতকড়া, হাতবাধা। তারপরেও তারা অন্তত জানাযা দিতে পেরেছেন প্রিয়জনদের। কিন্তু যারা আজও ফিনে নি, তাদের মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তান তারা কী করবেন।’

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: সালাহউদ্দিন আহমদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন