রাজস্থলীতে কলার বাম্পার ফলন

fec-image

পার্বত্যাঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের কৃষাণ-কৃষাণীরা সাধারণত জুম চাষের পাশাপাশি কলা চাষও করে থাকে। তাই পাহাড়ে উৎপাদিত কলা দেশে-বিদেশে সয়লাব করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। খরচ ও কম, কিন্তু ফলন বেশি লাভও বেশি। তাই চাষীদের অন্যান্য ফসলের তুলনায় কলা চাষের আগ্রহ বেশি।

রাঙামাটি, জেলার রাজস্থলী উপজেলায় প্রবেশ করলে সবার আগে চোখে পরে পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে কলা বাগান। সবুজ পাতার আড়ালে ঝুলে থাকে কাঁচা-পাকা কলার ছড়ি প্রতি আকর্ষণ সবার। পাহাড়ে উৎপাদিত এসব কলা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও সুসাধু মিষ্টি । এসব কলায় রয়েছে ব্যাপক পুষ্টিগুণ। পাহাড়ি এলাকায় কলার চাষাবাদ হয় ১২ মাস জুড়ে।

পাহাড়ে জুম চাষের, যেমন আদা, হলুদ, সরিষা, ঘষ্যের পাশাপাশি কলার চাষও পাহাড়িদের আদী পেশা।
জানা গেছে, পার্বত্যাঞ্চলে ১২ মাসেই কলা চাষের ফল পাওয়া যায়। তাই পাহাড়ে কলা মিলে বছর জুড়ে সব মৌসুমে। বর্তমানে স্থানীয়দের কলাচাষে সহায়তা দিচ্ছে সরকারের কৃষি বিভাগের পাশা পাশি এন জিও কারিতাস সংস্থা । ফলে কলার ফলন বেড়েছে আগের চেয়ে অধিক হারে।

তবে দুর্গম এলাকায় বাজারজাতে পর্যাপ্ত সুবিধা গড়ে না উঠায় অনেক সময় উৎপাদিত কলার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। যেমন ঝান্দিমইন, বিলাইছড়ি সীমান্ত মাঘাইনপূর্ণবাসন পাড়া, ঘিলামুখ, মুবাছড়ি এলাকার উপজাতীয়রা তাদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় চলতি বছর কলাচাষ হয়েছে ৩ হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে। এ উপজেলার ঘিলাছড়ি ও গাইন্দ্যা ইউনিয়নে, কলাচাষের খ্যাতি অনেক। সারা বছর এ সব, ইউনিয়নে বাংলা, আনাজি, সবরি, চাম্পা,চিনি সাগর বরী, নেপালি, সাগার ও সূর্যমুখি ও নেপালি কলার বাম্পার উৎপাদন হয়।

এসব পাহাড়ি কলাগুলো প্রত্যন্ত পাহাড়ী গ্রাম থেকে কান্দে বোঝাই করে বাজারে নিয়ে আসে। ট্রাক পিকআপ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম রাঙুনিয়াসহ বাইরে নিয়ে যান পাইকারি ব্যবসায়ীরা। এছাড়া প্রতি সাপ্তাহিক হাটে কলার হাট বসে বাঙালহালিয়া, ইসলামপুর ও রাজস্থলী বাজারে ।

ঝান্দিমইন এলাকার কলা চাষী জলক্য তনচংগ্যা জানান, প্রতিটি কলার ছড়ি পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে  ‘শ, ৭’শ টাকার মধ্যে। আবার যদি বড় সাইজের হয় তাহলে মুল্য ১০০০ টাকার অধিক প্রতি ছড়ি। এসব কলার চাহিদা সমতলে বেশি। তাই পাহাড় থেকে এসব কলার ছড়ি পাইকারী ব্যবসায়ীরা ঢাকা- চট্রগ্রামসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে বেশি দামে বিক্রি করছে।

সাপ্তাহিক হাটের দিন বেচাকেনা হয় লাখ লাখ টাকার পাহাড়ের উৎপাদিত কলা। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। তবে রাজস্থলী উপজেলা কৃষিবিভাগ বলছে, সংরক্ষণের অভাবে কষ্টের উৎপাদিত কলা পাহাড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই কলার নায্যমূল্য পাচ্ছে না চাষীরা। রাজস্থলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, পাহাড়ে এখন আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে কলার চাষ হচ্ছে। তাই পাহাড়ে কলার উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু কলা সংরক্ষণে কোন ব্যবস্থা না থাকায় চাষীরা ক্ষতির সন্মুখীন হচ্ছেন। হিমাগার স্থাপনের মাধ্যমে কলা চাষের সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে পরিচিতি পাবে রাজস্থলী উপজেলার এমনটাই আশা কৃষিবিদদের।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 + nine =

আরও পড়ুন