রেমাক্রি পাথুরে নদীতে বাড়ছে পর্যটকদের ফেলা আবর্জনা

fec-image

বাংলাদেশে সৃষ্ট একমাত্র পাহাড়ি নদী সাঙ্গু। বান্দরবানের গহীন পাহাড়ে এই নদীর উৎপত্তি। নদীটি দীর্ঘ চলার পথে মিশেছে অসংখ্য খাল। এরমধ্যে রেমাক্রি অন্যতম।

কিন্তু সম্প্রতি দুষনের কবলে পড়েছে রেমাক্রি পাথুরে নদীটি। পর্যটন মৌসুমে ঘুরতে আসা পর্যটকদের যত্রতত্র ফেলে দেওয়া খাবারের প্যাকেট ও প্লাষ্টিকের বোতলসহ নানা রকম আবর্জনার কারনে ভবিষ্যতে নদীটি ভরাটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নাফাকুম থেকে রেমাক্রি বাজার, তিন্দু ও বড় পাথর এলাকায় নদীর দু’পাশে খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, বিস্কিট, চিপস, চকলেট, স্যালাইন ও জুসের খালি প্যাকেটসহ পলিথিন জাতীয় ময়লা আবর্জনায় স্তুপ জমেছে।

উভয়পাশ থেকে চলাচল করা ইঞ্জিন বোটের পানির ঢেউয়ে এসব আবর্জনাগুলো নদীতে চলে আসছে। এতে করে খালের তলদেশে ময়লা আবর্জনা জমে যাওয়ার আশংকা করছেন পরিবেশবাদীরা।

জানা গেছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে পুরো শীতকাল থানচি থেকে তিন্দু, বড় পাথর, রোমাক্রি, নাফাকুম পর্যন্ত হাজার হাজার পর্যটক ভ্রমনে যায়। পর্যটন মৌসুমে রেমাক্রিতে প্রতিদিন ৩-৪ শত পর্যটকের আগমন ঘটে।

এসব পর্যটকরা সেখানে রাত্রি যাপনের ফলে ময়লা আবর্জনার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও নৌ ভ্রমন ও নাফাকুম যাত্রাপথে অনেক পর্যটক খাবারের প্যাকেট বা পানির বোতল নদীর পাশে আবার অনেকে নদীতেই ছুঁড়ে ফেলে। যার কারনে প্রতিবছর ৬-৭মাস নদীতে প্রচুর আবর্জনা জমে।

এদিকে নদী ও পরিবেশবাদীরা বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে নানাভাবে প্রচাণা চালিয়েছেন। অনেকে আবার স্বেচ্ছায় রেমাক্রিতে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমও চালান।

এই প্রসঙ্গে বান্দরবানের থানচি উপজেলার ট্যুরিস্ট গাইড মামুনুর রশিদ (মামুন) এই প্রতিবেদককে বলেন- ভ্রমণের সময় পর্যটকদের খাবারের প্যাকেট নৌকায় রেখে পরবর্তী তা পুড়িয়ে ফেলা হয়। কিন্তু অনেক গাইড এই বিষয়টি হয়তো গুরুত্ব না দেওয়ার কারনে পর্যটকরা নদীতে খাবারের প্যাকেট ও ময়লা আবর্জনা ফেলে থাকে।

বিষয়টি নিয়ে পর্যটক ও গাইডদের সবসময় পরামর্শ দেন প্রশাসন। থানচির সুপরিচিত এই গাইডের মতে, ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বেড়াতে যান সেসব পর্যটকরাই নদীতে ময়লা আবর্জনা ফেলে থাকে। একই কথা জানান অপর ট্যুরিস্ট গাইড হারুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল হক মৃদুল বলেন- প্রকৃতিকে আমরা প্রকৃতিতেই রাখতে চাই। তিন্দু, রেমাক্রি বা নাফাকুম এলাকায় স্থাপনা তৈরী করে আমরা প্রকৃতি ধ্বংস করতে চাইনা।

তিনি আরো বলেন- মানুষ যেখানে থাকবে সেখানে ময়লা আবর্জনা হয়। কিন্তু তাই বলে এসব আবর্জনা নদীতে ফেলা মুঠেও উচিৎ নয়। ‘কিছু পর্যটক রেমাক্রিতে রাত্রিযাপনকালে ময়লা আবর্জনা ফেলে থাকেন’। এই বিষয়টি নিয়ে থানচি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাদের অবহিত করেছেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটন, রেমাক্রি, সাঙ্গু নদী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − 2 =

আরও পড়ুন