রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সর্বত্র শোভা পাচ্ছে ‘আরসা’ ক্যালেন্ডার, নেপথ্যে কারা?

fec-image

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) বিদ্রোহী সংগঠনটির নামে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শোভা পাচ্ছে ক্যালেন্ডার। কুতুপালং ক্যাম্পে আরসা’র পৃষ্টপোষক হাফেজ জালাল নবনির্বাচিত ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এই সংগঠনটির তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও সে ইয়াবা, মাদক, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরজমিন উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প কমিটির রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কুতুপালং ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের প্রতিটি ঘরে, দোকানে টাঙানো দেখা গেছে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা)’র নামের ক্যালেন্ডার। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (স্যোশাল মিডিয়ায়) স্থানীয় লোকজন বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

শ.ম গফুর নামের এক গণমাধ্যমকর্মী তার নিজস্ব ফেসবুকে লিখেছে, ‘এরা আমাদের মেহমান, এসব কর্মকাণ্ড কেন? রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক আরসা’র ক্যালেন্ডার! এসব কে, কিভাবে, কোথায়, কখন প্রিন্ট করে সরবরাহ করেছে। তা খতিয়ে দেখা দরকার’

পলাশ বড়ুয়া নামের আরেক সংবাদকর্মী তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছে-‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক আরসা’র ক্যালেন্ডার! এসব কে, কিভাবে, কোথায়, কখন প্রিন্ট করে খতিয়ে দেখা দরকার’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের সাবেক ক্যাম্প কমিটির এক নেতা বলেন, আগে কখনো এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্যাম্পে দেখা যায়নি। কিন্তু এখন রোহিঙ্গাদের ‘আরসা’র সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে অপতৎরতা লিপ্ত রয়েছে একটি গ্রুপ। বিশেষ করে সম্প্রতি রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে একজন আরসা’র নেতা ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই বিদ্রোহী সংগঠনটি তৎপরতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সেই বিতর্কিত হাফেজ জালাল শুধু আরসার নাম নয়, তার সম্পৃক্ত রয়েছে ইয়াবা, মাদক ও মানবপাচারের মতো জঘণ্য কর্মকাণ্ডে।

সূত্রমতে, গত ২ মাসে উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা এবং সাগর থেকে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা যুবক-যুবতিদের উদ্ধার করে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে, এদের অধিকাংশ কুতুপালং ক্যাম্পের আশ্রিত রোহিঙ্গা। উদ্ধার হওয়ার বেশ কয়েকজন ভিকটিমের সাথে কথা বলে জানা যায়, কুতুপালং ক্যাম্পের চিহ্নিত দালালের মাধ্যমে তারা মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে চেয়েছিল। এ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যায়, কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে কমিটির অফিসে বসে মানবপাচারের সালিশ করছিলেন ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যান আরসার নেতা হাফেজ জালাল। ওই সময় এ প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তড়িগড়ি করে সালিশ শেষ করে দেয় জালাল। কিসের সালিশি বৈঠক হচ্ছিল এ নিয়ে জানতে চাইলে সে মানবপাচার সংক্রান্ত ঘটনা বলে স্বীকার করলেও ভিকটিম ও দালালের নাম দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এর সূত্র ধরে কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার নিকট জানতে চাইলে তারা হাফেজ জালাল এর সাথে জড়িত বলে জানান তারা।

তারা আরো বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে আমরা ক্যাম্পে অবস্থান করছি। কিন্তু আগে কখনো আরসা নামক রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠনটির কর্মকাণ্ড এভাবে প্রকাশ্যে দেখিনি। কারা এসব ক্যালেন্ডার, ব্যানার, পোস্টার তৈরি করে দেয় তাদের খুঁজে বের করা দরকার।

অভিযোগ করে স্থানীয় লোকজন জানান, হাফেজ জালাল রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তার সাথে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন লোকজনের সাথে পরিচয় থাকায় নিকট থেকে টাকা এনে মসজিদের নাম ব্যবহার করে ক্যাম্পে স্থায়ী স্থাপনা তৈরি করছে। তবে বিদেশী এসব অর্থের বেশির ভাগ অংশ ব্যয় করে থাকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠনের কাজে।

কুতুপালং ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি)খলিলুর রহমান খাঁন বলেন, কুতুপালং ক্যাম্পে এ ধরনের ক্যালেন্ডার লাগানো ব্যাপারে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। তবে কেউ এডিট করে স্যোশাল মিডিয়া প্রকাশ করতে পারে। তবুও এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 10 =

আরও পড়ুন