ইসরায়েলকে ভ্যান্সের সতর্ক বার্তা, বললেন তোমাদের একমাত্র ভরসা যুক্তরাষ্ট্রই


ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দেশটির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে কার্যত শুধু যুক্তরাষ্ট্রই রয়েছে, এবং সামরিক শক্তি বা “হত্যার পথ” দিয়ে সব নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
ইসরায়েল-এর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থী সদস্যদের সমালোচনার জবাবে ভ্যান্স বলেন, ওয়াশিংটনের শান্তি উদ্যোগের বিরোধিতা করা মানে নিজেদের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকেই অপমান করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, লেবাননে বেসামরিক এলাকায় সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স দাবি করেন, একটি ছোট জনসংখ্যার দেশ দীর্ঘমেয়াদে কেবল যুদ্ধের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক মাসে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহৃত অস্ত্রের বড় অংশই মার্কিন করদাতাদের অর্থে সরবরাহ করা হয়েছে, তাই ইসরায়েলকে বাস্তবতা বুঝতে হবে।
এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভির ও সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় জবাব দেন। একইসঙ্গে আরেক মন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও চুক্তিটির সমালোচনা করেন।
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এই সমঝোতাকে “ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ” বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রস্তাবিত ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের কিছু অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং তেল খাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে সম্মত হয়েছে ইরান যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
তবে চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর তাৎক্ষণিক কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম মহলে এটিকে “বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে ইসরায়েল তার নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
















