আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

লামায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি

fec-image

বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, বিগত কোন সরকারের আমলে লামা উপজেলার জনসাধারণকে এমন অবনতিশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ও দায় সারা গোচর কার্যক্রম দায়ী করছেন বিজ্ঞজনরা। পুরো উপজেলার মানুষ বিশেষ করে যাদের জায়গা-জমি, বাগান ও সহায়-সম্পদ আছে তাদের প্রতিটি মুহূর্তে কাটছে আতঙ্কের মধ্যে। সুবিধাবাদী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলার মানুষ।

স্থানীয় অনেকে বলছেন, বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে অন্য কোন উপজেলায় এমন পরিস্থিত সৃষ্টি হয়নি। এই উপজেলার কোন না কোন এলাকায় প্রতিদিনই মানুষের জমি জবর দখল, প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষের ৩০/৪০ বছরের লালিত লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের বাগানের গাছ লুট, মারামারি সহ লুটপাট কার্যক্রম চলছে। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে।

লামা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট মমতাজুল ইসলাম (৮০) গতকাল রবিবার বিকালে স্থানীয় একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, একটি সুবিধাবাদী চক্র তার বাগানের কয়েক লক্ষ টাকার গাছ প্রকাশ্যে লুট করে নিয়ে গেলে গত ১৫ জানুয়ারি লামা চৌকি আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এজাহার হিসাবে নথিভুক্ত করে কোর্টকে অবহিত করার আদেশ দেওয়ার চারদিন অতিবাহিত হবার পরও এজাহার নথিভুক্ত করা হয়নি। বরং মামলা করার খবর পেয়ে আসামীগণ অধিকতর ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসত ঘর ভাংচুর করে মালামাল লুটপাট করছেন বলে তিনি জানান। একজন আইনজীবী হওয়ার পরও তিনি পুলিশের আইনী সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

উপজেলার সরই ইউনিয়নের ফেয়ারী এগ্রোর এস্টেট অফিসার মো. গোলাম মোস্তফা অপর এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, প্রকাশ্য দিবালোকে একটি চিহ্নিত চক্র সন্ত্রাসী কায়দায় তাদের খামারে ১০ কোটি টাকার অধিক মূল্যের বাগানের গাছ, মাছ, গরু, ছাগল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে ফেয়ারী এগ্রোর বাগানের আরও ১০ কোটি টাকা মূল্যের অবশিষ্ট গাছ প্রতিদিনই লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট লিখিত ও মৌখিক ভাবে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নিষ্ক্রিয় কর্মকাণ্ড অপরাধী চক্রের জন্য সেল্টার হিসাবে কাজ করছে বলে তিনি দাবি করছেন।

এই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষের সহায়-সম্পদ, ৩০-৪০ বছর ধরে লালন করা বাগান চোখের সামনে নিমিষেই লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী অপরাধী চক্র।

অভিযোগে আরো জানা যায়, সুবিধাবাদী চক্রের সাথে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অপরাধ প্রবন সদস্যের বিশেষ সক্ষতায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের ভাগ্যে মিলছেনা প্রতিকার। গজালিয়া, লামা সদর, ফাঁসিয়াখালী, আজিজনগর, সরই, ফাইতং, রূপসী পাড়া সহ পুরো উপজেলায় একই চিত্র।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ, মো. শাহাদাৎ হোসেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, দেখেন আমাদেরকেও আপনাদের লাগবে এবং আপনাদেরকেও আমাদের লাগবে। তিনি আরো জানান, আপনারা তো সব বিষয় জানেন তারপরও আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন