কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসের ৯ বছর, এখনোও ঝুঁকিতে ৫০০ পরিবার

fec-image

২০১৭ সালের ১৩ জুন। রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইবাসীর জন্য দিনটি বিভীষিকাময়। আগের দিন মধ্যরাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। টানা বর্ষণে তখন ঘরবন্দী মানুষ। ওই দিনের পাহাড়ধসে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় প্রাণ হারায় ১৮ জন। আহত হয়েছে শতাধিক নারী-পুরুষ।

১৩ জুন সকালে কাপ্তাইবাসী শুনল ভয়াবহ পাহাড়ধসের কথা। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে লাগল মৃত্যুর খবর। সেই দিন সকালে প্রথম দুঃসংবাদটি আসে ১ নম্বর চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি থেকে। ভয়াবহ পাহাড়ধসে সেদিন ওই এলাকায় বসবাসরত নুরনবীসহ তাঁর ছেলের সন্তানসম্ভবা স্ত্রী এবং তার শিশুপুত্র ঘটনাস্থলে মারা যায়। এরপর একে একে কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গার মুরালীপাড়া, রাইখালির কারিগরপাড়া এবং চিৎমরম ইউনিয়ন থেকে পাহাড়ধ্বস ও মৃত্যুর খবর আসতে থাকে।দিশেহারা হয়ে পড়ে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের লোকজন। সেদিনের পাহাড়ধসে কাপ্তাইয়ে প্রাণ হারায় ১৮ জন। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায় শত শত একর সবজি খেত, নষ্ট হয় বহু ঘরবাড়ি। এখনো দিনটির কথা স্মরণ করে শিহরিত হয় ওই সব এলাকার মানুষ।

১৩জুন২০১৭ কাপ্তাইয়ের পাহাড়ধসের ৯ বছর হয়ে গেলেও এখনো কাপ্তাইয়ের অনেক জায়গায় পাহাড়ে ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে শত শত পরিবার। বিশেষ করে ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনিতে পাহাড়ের পাদদেশে এবং ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে প্রায় ৫শ’অধিক পরিবার। এ ছাড়া ওয়াগ্গা ইউনিয়নের মুরালীপাড়া, রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়া, তিনছড়ি, মিতিঙ্গাছড়িসহ দুর্গম অনেক জায়গায় বসবাস করছে অনেক পরিবার। তাঁরা আছেন ঝুঁকিতে। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে এই মানুষদের প্রশাসনের পক্ষ হতে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হলেও এ সব পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়নি এখনো।

৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের প্রকৌশলী চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ জানান, কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনি এলাকায় এখনো ঝুঁকিতে বাস করছে বহু মানুষ। যখন অতি বৃষ্টি হয়, তখন পাহাড়ধসের আশঙ্কায় তাঁরা নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে আসে। যদি এসব লোককে স্থায়ীভাবে কোনো জায়গায় পুনর্বাসন করা যেত, তাহলে সমস্যার সমাধান হতো।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলাম জানান, ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনিসহ উপজেলার রাইখালী ও ওয়াগ্গা ইউনিয়নে এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা বসবাস করছে তাদের ডাটাবেজ করবো, তারা ভুমিহীন কিনা। যদি তারা বিল্ডিং কোড মেনে ঘর বাড়ি করে তাহলে আমরা সহায়তা করবো।

তিনি আরোও বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইতিমধ্যে আমরা এসব এলাকায় গিয়ে জনগণকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার জন্য অনুরোধ করি। বিশেষ করে অতি বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকে। তখন আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসি এবং তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করি। যদি ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীরা দুর্যোগের আগে নিরাপদ স্থানে চলে আসে, তাহলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, ১৩ জুন ২০১৭ সালে আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর দায়িত্বে ছিলাম। সেদিন সকালে প্রথমে খবর পাই ১নং চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন এর মিতিঙ্গাছড়িতে পাহাড় ধ্বসে একই পরিবারের কয়েকজন মাটির নীচে চাপা পড়ে আছে। আমি ঝুঁকি নিয়ে সেই এলাকায় যাই। কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে সমগ্র কাপ্তাইয়ের ক্ষতিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চালাই।

তিনি আরোও জানান, এখনো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অনেকে বসবাস করছেন। বিশেষ করে ঢাকাইয়া কলোনির বাসিন্দারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন। তাদেরকে স্থায়ী কোন বন্দোবস্তের জন্য বর্তমান সরকার চেষ্টা করবেন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কাপ্তাই
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন