শীতের আমেজে পর্যটকে মুখরিত সাজেক

fec-image

দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকদের গন্তব্য এখন প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্য্যের আধার রাঙ্গামাটি জেলার মেঘের দেশ নামে পরিচিত সাজেক ভ্যালি ইতোমধ্যে দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষনীয়, মনোমুগ্ধকর এবং চিত্তাকর্ষক একটি স্থানের নাম। সাজেকের ঈর্ষনীয় রূপ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। কোথাও নীল আকাশ আবার কোথাও কালো মেঘের ভেলা। কোথাও ঝুম বৃষ্টি আবার কোথাও প্রখর রোদ। বৃষ্টি শেষের দৃশ্য আরো মোহনীয়। পাহাড় ভেদ করে মেঘের পারাপার দেখে মনে হবে শীতের ঘন কুয়াশা ছেয়ে গেছে চারপাশ। এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সখ্য হবে মেঘের সঙ্গে।

পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই সাজেকে প্রায় শতাধিক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে এবং উন্নত হয়েছে মানুষের জীবন-জীবিকা ও আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা। প্রতিবছর নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষে ছুটির দিনগুলোতে অবকাশ যাপনের জন্য প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক সাজেক ভ্যালিতে বেড়াতে আসেন। বিশেষ করে শীতকালিন ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের আগমনের হার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। বিগত অন্যান্য বছরের চেয়েও চলতি মৌসুমে হাজারো পর্যটকে সরব হয়ে উঠেছে সাজেক ভ্যালি।

প্রতিদিন দেশী-বিদেশী পর্যটকের পদভারে মুখরিত সাজেক ভ্যালি পর্যটন স্পট। আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ার কারণে খালি নেই এখানে অবস্থিত শতাধিক রিসোর্টের কোন কক্ষ। পর্যটকদের এরুপ উপচে পড়া ভিড়ের কারণে বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে রুইলুই পাড়া, সাজেক পর্যটন এলাকা। সেই সাথে বিভিন্ন দোকানগুলোতেও বেড়েছে কেনাবেচার পরিমাণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাজেক পর্যটন এলাকার রিসোর্ট ব্যবসায়ী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল সমূহের মাধ্যমে সমস্ত অপ্রীতিকর ঘটনা সমূহ ঘটেছে। এতে করে চলতি বছর পর্যটক কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনীর আন্তরিকতায় পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদানের কারণে প্রাকৃতিক দূর্গমতা সত্বেও প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমন পিপাসুদের আগমনের কারণে এলাকাটি সার্বিকভাবে আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বাঘাইহাট জোন ও স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঘাইহাট বাজার চালু করার কারণে অত্র অঞ্চলের জনবসতিকে বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও গতিশীল করেছে।

তবে দেশের দুর-দুরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের সাথে কথা বললে পর্যটকরা জানায়, দীর্ঘপথ অতিত্রুম করার পর খাগড়াছড়ি হতে সাজেকের উদ্দেশ্যে যখন গমন করি, তখন যাত্রাপথে দীঘিনালা, ১০ ডিপি, বাঘাইহাট এবং মাসালং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পর্যটকদের সুরক্ষায় যে চেকিং করা হয় তার পরিমাণ কিছুটা কমানো হলে, পর্যটকগণ আরো স্বতঃ স্ফূর্ত মন নিয়ে সাজেকের এই অপরুপ সৌন্দর্যমন্ডিত স্মৃতি নির্বিঘ্নে হৃদয়ে ধারণ এবং আনন্দের মাত্রটা আরো দ্বিগুন হত।

সাজেকের মত দূর্গম এলাকায় রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে, সেনাবাহিনী কর্তৃক সাজেক থেকে বেতলিং ২৩ কি.মি রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান। পাহাড়ি উঁচু নিচু রাস্তা সম্পন্ন হলে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের জন্য অত্র অঞ্চল হয়ে উঠবে সৌন্দর্যমন্ডিত স্থানসমূহের মধ্যে অন্যতম।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: পর্যটক, রিসোর্ট, সাজেক ভ্যালি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × one =

আরও পড়ুন