সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই


বাংলাদেশের সাবেক স্পিকার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম।
মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৯৫ বছর। আজ সকাল ৭ টায় ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে গোসল শেষে করে ধানমন্ডি নিজ বাসায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নামাজের জানাজা ও দাফনের শিডিউল এখনো চূড়ান্ত হয়নি, চুড়ান্ত হলে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে দেশের আইন অঙ্গন, রাজনীতি এবং সংসদীয় পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড়) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে তার জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করে দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে আইন পেশা পরিচালনা করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় হন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পর তিনি দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও দীর্ঘদিন স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা, সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিলেন। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার ছিল গভীর আগ্রহ। আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন। নিজ জেলা পঞ্চগড়ে ‘ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভিজ্ঞ সংসদীয় ব্যক্তিত্বের অধ্যায়ের অবসান ঘটল। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আইন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।















