হাদীর শাও-য়া মাও-য়া ছিড়া ফেলানো বক্তব্যের যে ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসু নেত্রী


শহীদ ওসমান হাদীর বলে যাওয়া একটি বাক্য ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন এইটি ছিলো নিছক ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক বক্তব্য, আবার অনেকেই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে এটিকে ‘নোংরা ও অসভ্য’ আখ্যায়িত করেছেন। তবে এইবার শহীদ ওসমান হাদীর ‘শাও-য়া মাও-য়া ছিড়া ফেলানো বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
বুধবার ( ২৭ মে ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন তিনি।
পাঠকদের জন্য তাসনিম জুমার দেওয়া ফেসবুক পোস্টটি হুবুহু দেওয়া হলো:
শা-ওয়া মা-ওয়া ছিড়া ফালাইতে হবে খা-নকির পোলাগো এইটা বলা হয়েছিল যেদিন নাহিদ হাসনাত সার্জিসদের জীবন মৃত্যুর মধ্যে দাঁড়িয়ে আওয়ামীলীগ ফেরার পায়তারা করেছিল। এইটা যতটা না তাদের জন্য তারচেয়ে বেশি আওয়ামী স্পর্ধাকে চ্যালেঞ্জ কইরা।
যেভাবে জুলাইতে হাসিনারে দল মত সব নির্বিশেষে খা*,মা*, ভু* বলা হইসিলো সেই কন্টেক্সটে।
এইটা নাকি নারী বিদ্বেষ। মূর্খের দল, ওসমান হাদি সেই ব্যক্তি যে হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে আমি ও আমার স্লিভলেস পরা বান্ধবীকে নিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রদের কটুক্তি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। খেলাফতে মজলিসের প্রোগ্রামে গিয়ে টিশার্ট পরা মেয়েদের সম্মান করতে বলেছিল যেন সে নির্দ্বিধায় হেফাজত কিংবা অন্য যে কোন ইসলামি দলের সাথে বেইনসাফি হইলে প্রতিবাদ করতে পারে।
গুনভী সাহেবের একটা ওয়াজে নারীদের বে* শ্যা বলার প্রতিবাদ করায় তার ঘরের মেয়েদেরই গালাগালি করা হয়েছে।
পডকাস্টে বলেছে যে আমি দাড়ি টুপির কারণে যেভাবে হ্যারাস হয়েছি, একটা টিশার্ট পরা মেয়েকে তার পোশাকের জন্য এমন হ্যারাস হইতে যেন না হয় সেটা আমার লড়াই। পোশাকের জন্য কাউকে হীনমন্যতার মধ্য দিয়ে যাইতে না হয়।
মূর্খ বলে ভুল করেছি। এরা মূলত জ্ঞানপাপী। এরা এই সবই জানে। কিন্তু মিথ্যা বারবার বলে বলে সত্য হিসেবে স্ট্যাব্লিশ করে যদি একটু সম্মান কমানো যায় এই ধান্ধা।
হাসিনারে মা* ভু*স্কি বলে সেসব আপুরাও এইসব শেয়ার দিয়ে নারীবাদী সাজে। তুমি যে সময়ে যেই কন্টেক্সটে হাসিনারে ভু*স্কি কইসো সেই একই কনটেক্সটে ইন জেনারেল এই গালি ছিল যে, আমার ভাইদের গায়ে হাত দিলে ছিইড়া ফেলব সব। এর বাইরে যে কবে কখন কোথায় কাকে গালি দিয়েছে একটা প্রমাণ নাই। আওয়ামী স্টাইলে একটু দাদাবাবুদের কোলে উঠতে এই বিচ্ছিরি ন্যারেটিভ ন্যারেটিভ খেলায় মত্ত হয়েছে একদল যেন বিচার চাইতেই লোকে ভয় পায়। কেউ তার নাম ধরলেই বলা হয় ব্যবসায়ী। প্রত্যেকটা ইস্যুতে তারে নিয়ে অথবা আমার সাথে জড়িয়ে একটা নোংরা ফটোকার্ড বানানো হয় ডিফেইম এর উদ্দেশ্যে। সেটাতে হাহাহিহি করে শিক্ষিত এলিট মারানো লোকজন। বিবেকবোধ তো নাই, চক্ষুলজ্জার ও বালাই নাই।
মিডিয়া ঘরানার কেউ হাদিকে নিয়ে কথা বললে তাকে নিয়েও করা হচ্ছে নোংরামি। অচ্ছুৎ বানানো হলো গতদিন ইলোরা আপাকে। এতে হাদি হারাবে বা লোকের অন্তর থেকে চলে যাবে এইটা তাদের প্লান।
হাদিকে ডিফেইমের জন্য এই ক্যাম্পেইনে আলো আসবেই গ্রুপের কে কে আছে আমাদের কাছে সব তথ্যই আছে। কত কোটি ইনভেস্ট করা হইসে সেটাও। তাও আবার বলবে হাদির অবদান কী। হাদির কোনো অবদান না থাকলে মরা মানুষের নামে তোদের অন্তর জ্বালা কেন এত? তাকে ডিফেইম করার পেছনে এত টাকা ইনভেস্টমেন্টই বা কেন?
একটু পর আবার জ্ঞান নিয়ে আসে, কি এক দেশ এই দেশে নারীরা কীভাবে ভালো থাকবে! হায় হায়! এরপর শুরু হবে নতুন নতুন ইস্যুতে সেমিনার আর প্রোপাগাণ্ডা, ট্রায়াল। এটার লাস্ট গন্তব্য যে ‘হাসিনা থাকতেই আমার দেশ নিরাপদ ছিল’ তা আমাদের জানা।
শাও-য়া মাও-য়া ছিড়ে ফালাবো শুইনা যারা কান্দে এই বাক্য তাদের জন্যই। নতুন নতুন ইস্যুতে দেশে ক্যাওয়াজ করবা, এরপর দিল্লির কিবলায় সিজদা দিবা, হাসিনারে ফিরাইতে চাবা যারা, তোমাদের জন্যই এই বাক্য।
ক্রাই মোর এন্ড মোর।

















