তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় নুরুন্নাহার নিম্নির


তৃতীয় বাংলাদেশি নারী এবং দেশের ইতিহাসে অষ্টম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করলেন নুরুননাহার নিম্নি।
বুধবার (২৭ মে) নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে তিনি সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন। অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ৮কে এক্সপেডিশনের পক্ষ থেকে অ্যাঙ তেম্বা শেপরা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)।
এর মাধ্যমে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীনের পর দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও কোনো বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্মি। নিম্মির এভারেস্ট জয়ের পরপরই তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে পর্বতারোহণ অঙ্গনে। শেরপার সহায়তায় তিনি নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে শিখরে পৌঁছান বলে জানা গেছে।
গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্মি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে তিনি পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। সেখানে ধাপে ধাপে উচ্চতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।
পর্বতারোহণের উপযুক্ত সময় সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখ ধরা হয়। সেই অনুযায়ী ১৭ মে তিনি চূড়ান্ত আরোহণের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন।
২৩ মে তিনি ক্যাম্প–৪-এ পৌঁছে শিখরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাকে আবার নিচে নেমে আসতে হয়। এরপর কয়েক দিন তিনি ক্যাম্প–২-এ অপেক্ষা করেন আবহাওয়ার উন্নতির জন্য। অবশেষে ২৫ মে আবহাওয়া অনুকূলে এলে আবার যাত্রা শুরু করেন।
২৬ মে তিনি পুনরায় ক্যাম্প–৪-এ পৌঁছান এবং সেখান থেকেই রাতের দিকে চূড়ান্ত শিখর অভিযানে যাত্রা শুরু করেন। এরপর আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। এই অভিযানে তার সঙ্গে নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের একজন শেরপা ছিলেন।
নুরুন্নাহার নিম্মি বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। তার এভারেস্ট অভিযানের স্পনসরও ছিল এই প্রতিষ্ঠান। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্মি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে। ২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ফিল্ডওয়ার্ক করতে গিয়ে প্রথম পাহাড়ের প্রতি তার গভীর আগ্রহ জন্মায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বড় একটি সময় তিনি কাটান বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরে।
অষ্টম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করে দেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করলেন নুরুননাহার নিম্নি।
এর আগে ২০১০ সালের ২৩ মে মুসা ইব্রাহীম প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। ২০১১ সালের ২১ মে এম এ মুহিত, ২০১২ সালের ২০ মে তিনি আবারও এভারেস্টের চূড়ায় ওঠেন।
২০১২ সালের ১৯ মে নিশাত মজুমদার বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। একই বছরের ২৬ মে ওয়াসফিয়া নাজরীন এভারেস্ট জয় করেন। ২০১৩ সালের ২১ মে মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, যিনি সজল খালেদ নামেও পরিচিত, এভারেস্ট জয় করেন। তবে চূড়া থেকে ফেরার পথে ৮ হাজার ৬০০ মিটার উচ্চতায় তিনি মারা যান। ২০২৪ সালের ১৯ মে বাবর আলী এভারেস্ট জয় করেন। একই বছরের ১৯ মে ইকরামুল হাসান শাকিলও এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন।















