হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের উত্তেজনা, মূর্তিসহ মালামাল লুটের অভিযোগ

fec-image

কক্সবাজারের চকরিয়ায় দেড়শত বছরের প্রাচীনতম হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহার সংস্কার নির্মাণের নামে পুরাতন বিহার ভাংচুরকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধধর্মলম্বী রাখাইনদের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বৌদ্ধ বিহারটি স্থানীয় রাখাইন পাড়ার মং ইয়াই প্রকাশ মং মাস্টার নামের এক রাখাইন ও তার ছেলে সেন জু’র নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে ভাংচুর চালিয়ে বিহারের স্বর্ণ ও বৌদ্ধ ধাতুর মূল্যমান মুর্তি লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন।

বিহার ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে বিহারের অধ্যক্ষ সুমনা ভিক্ষুকে বিহার থেকে বের করে তাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাটি তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ শুরু করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের রাখাইন নারী-পুরুষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইন সম্প্রদায়ের মাঝে শুরু হয় পক্ষ বিপক্ষের দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঘটনাস্থলে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এস আই পারসিত চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ অবস্থান করেন। খবর পেয়ে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রশাসন পরর্বতী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বৌদ্ধ বিহারের কার্যক্রম বহাল থাকবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ।
বৃহস্পতিবার (১৬জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের রাখাইন পাড়াস্থ প্রাচীনতম গুনামেজু বৌদ্ধ বিহারে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহার কমিটির উপদেষ্টা আ লং রি বলেন, একটি পুরাতন বৌদ্ধ বিহার সংস্কার করতে হলে আগে বিহার কমিটির দায়িত্বরত ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা দরকার। এটা কারো ব্যক্তিগত বিষয় না, এই বিহারটি পুরো রাখাইন সম্প্রদায়ের সম্পদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়। বিহার কমিটিকে উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের (ইউএনও) অনুমতি নিয়ে দাবি করে মং মাস্টার সমাজের ও সম্প্রদায়ের কাউকে না জানিয়ে ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে এসে আকস্মিক ভাবে পুরাতন বিহারটি ভাংচুর শুরু করেন। এতে বাঁধা দিতে গেলে উল্টো তাদেরকে প্রশাসনের ভয়ভীতি ও ক্ষমতা দেখিয়ে বিহার সংস্কারের জন্য দাবি তুলেন মং মাস্টার। এতে রাস্তায় ও বিহারে বিক্ষোভ শুরু করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ। এঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাঁরা। তবে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করেছিল উপজেলা প্রশাসন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মং মাস্টার ছেলে সেন জু বলেন, তার বাবা অসুস্থ অনুভব করছে। তার সাথে কথা বলা যাবে না। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পুরাতন বিহারটি সংস্কারের জন্য ভাঙানো হচ্ছে। বৌদ্ধ বিহারে কোন ধরণের লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান জানান, হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহার সংস্কার নিয়ে বৌদ্ধধর্মলম্বী সম্প্রদায়ের স্থানীয় রাখাইনের মধ্যে অভ্যান্তরীণ বিরোধ দেখা দেয়। এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে তাদের বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × five =

আরও পড়ুন