হোয়াইক্যংয়ে ভাড়াটে রোহিঙ্গার মাধ্যমে বসত ভিটে জবর দখল, রক্তপাতের আশঙ্কা

fec-image

টেকনাফের হোয়াইক্যং বালুখালী এলাকায় ভাড়াটে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর মাধ্যমে পিতার বিক্রিত বসত ভিটে জবর দখল করে নিলো ছেলে মেয়েরা। এ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ২৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল থেকেও ঘটনাস্থলে একদল রোহিঙ্গা অবস্থানে রয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় মৃত বদন আলীর ছেলে জুলু মিয়ার পৈত্রিক সম্পত্তির দশ শতক বসতভিটে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে মোবারেকের স্ত্রী হাফেজা খাতুনকে বিক্রি করে দেয়। শুরু থেকে দখলে ছিলেন এ নারী। গত ৫ নভেম্বর জুলু মিয়ার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রইজা খাতুনের ছেলে মেয়েরা ভাড়াটে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পিতার বিক্রিত জমি অবৈধভাবে দখল করে ফেলার অভিযোগ তোলেন খোদ পিতা।

এ সময় বাধা দিলে ছেলে মেয়েসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। কর্তন করা হয় গাছপালা ও ঘেড়াবেড়া। তাদের হামলা আহত হন জুলু মিয়া (৬১) ছেলে বাবুল মিয়া (৩৫) ও পুত্রবধু উম্মে কুলসুম (২০)। তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেন তারা।

এ ব্যাপারে বাদি হয়ে টেকনাফ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন জুলু মিয়া। তিনি জানান, প্রায় ৫ বছর পূর্বে স্বামী জুলু মিয়াকে তালাক দেয় রইজা খাতুন। তখন থেকে জাম্পতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে নতুন সংসার করে রইজা। সেখানে তার সাথে ছেলে মেয়েরাও থাকে। চলতি মাসের শুরুতে মোহাম্মদ আলী ও তার রোহিঙ্গা স্ত্রী মোহছেনা, কাটাখালী এলাকার সৈয়দুল ইসলামের ছেলে কোরবান আলী, রুবেল, বাহাদুর, রাশেদ, মৃত আশরাফ আলীর ছেলে দেলোয়ারসহ অপরাপর ভাড়াটে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা এসে বসত ভিটে দখল করে ফেলা হয়। এতে বাধা দেয়ায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যাপক হামলা চালান তারা। তাদের হুমকি ধমকিতে অসহায় হয়ে পড়েছে বাদি ও ১ম স্ত্রীর সন্তানেরা।

এ দিকে স্থানীয়রা জানান, বিবাদীরা রোহিঙ্গা আসার পর থেকে ক্যাম্পে অবস্থান করে আসছেন। তাদের সাথে মাদক ও রোহিঙ্গা অস্ত্রধারীদের সংখ্যাতা রয়েছে। সে সুবাধে ভাড়াটে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর মাধ্যমে ওই বসত ভিটেটি জবর দখল করে নেয়। এদের অনেকের বিরুদ্ধে ইয়াবা মামলাও রয়েছে। বাদি ও জমির মালিক বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জমিটি উদ্ধার করতে গেলে যে কোনো সময় খুন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান বাদিরা। এ ব্যাপারে স্থানীয় সমাজকর্মী আবুল কাসেম রনি জানান, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সমাধান হয়নি।

হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ীর এসআই মুজিবুর রহমান জানান, অভিযোগটি দেওয়ানি হওয়ায় তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। পাশাপাশি কোনো ধরণের যেনো অঘটন না হয়, সে ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × two =

আরও পড়ুন