মাতারবাড়ীর বেড়িবাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

fec-image

মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে চলমান জিও ব্যাগ দিয়ে বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বেড়িবাঁধের একেবারে পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে সেই বালু দিয়েই জিও ব্যাগ ভরে সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বাঁধের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং পুরো সংস্কারকাজের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২রা জুলাই বিকালে সরেজমিনে মাতারবাড়ীর পশ্চিম জালিয়াপাড়া সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভারী যন্ত্রের মাধ্যমে বাঁধঘেঁষা স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভরে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ফেলা হচ্ছে। বালু তোলার কারণে বাঁধের পাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের সময় সমুদ্রের প্রচণ্ড চাপ সরাসরি এই বেড়িবাঁধের ওপর পড়ে। এমন অবস্থায় বাঁধের পাশ থেকেই মাটি বা বালু সরিয়ে নেওয়া হলে ভিত্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে জিও ব্যাগ বসানো হলেও তা দীর্ঘদিন টিকবে না। বড় জোয়ার বা বৈরী আবহাওয়ায় সহজেই ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও একইভাবে বেড়িবাঁধের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করে জিও ব্যাগ দিয়ে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই অনেক স্থানে জিও ব্যাগ সরে যায় এবং ধসে পড়ে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে করা সেই সংস্কারকাজ কার্যত কোনো দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনতে পারেনি। এবারও একই পদ্ধতিতে কাজ করায় পুনরায় সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাতারবাড়ী উপকূলীয় এলাকার হাজারো মানুষের জীবন, বসতভিটা, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এই বেড়িবাঁধের ওপর নির্ভরশীল। তাই সংস্কারকাজে কোনো ধরনের অবহেলা বা নিম্নমানের কাজ ভবিষ্যতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

তারা আরও বলেন, বেড়িবাঁধ রক্ষার জন্য সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও তদারকি কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে বেড়িবাঁধের পাশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ, প্রকল্পের নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ এবং সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: কক্সবাজার, মহেশখালী, মাতার বাড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন