অনলাইনে প্রজ্ঞা তাপস চাকমার সেনাবাহিনী ও দেশবিরোধী লাগাতার অপপ্রচার!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও দেশের সশস্ত্র সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার চালাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্তান ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রবাসী প্রজ্ঞা তাপস চাকমা। পি টি চাকমা নামে নিজের ভেরিফাইয়েড ফেইসবুক পেইজ থেকে তিনি একের পর এক দেশবিরোধী পোস্ট দিচ্ছেন।
প্রজ্ঞা তাপস চাকমার কুরুচিপূর্ণ এসব পোস্টের কমেন্ট অপশনে পাবর্ত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সশস্ত্র কর্মীরা বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান যুক্ত করছে। এসব ভুয়া তথ্য ও পরিসংখ্যান পার্বত্যাঞ্চল নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা দেশি-বিদেশী গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রজ্ঞা তাপস চাকমাকে দিয়ে দেশ ও সরকার বিরোধী অপশক্তি এমন মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন শান্তিপ্রিয় পার্বত্যবাসী। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রজ্ঞা তাপস চাকমার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাইছেন।
ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভার শহরে বসবাসকারী প্রবাসী লেখক এই প্রজ্ঞা তাপস চাকমা হঠাৎ করেই ফেইসবুকে বাংলাদেশ বিরোধী, সেনাবাহিনী বিরোধী লেখালেখি বাড়িয়েছেন। তিনি ৮ ডিসেম্বর ‘ভারতের দেরাদুনে সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৪০ জন তরুণ সৈনিক দিয়ে পার্বত্য অঞ্চল পুনরায় উদ্ধার করা অবশ্যই সম্ভব’ শিরোনামে পোস্ট দিয়েছেন।
৬ ডিসেম্বর পিটি চাকমা লেখেন ‘ব্রেকিং নিউজ, পার্বত্য অঞ্চলকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র অথবা ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং তথ্য উঠে এসেছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। ইহুদীরা মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ ভারতের উত্তর পূর্ব পাহাড়ে বসবাসরত জনজাতি হচ্ছে ইসরাইল থেকে বিতাড়িত হওয়া বেনেমেনাসে বংশধর। তার জন্য ভারতের মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম রাজ্যে থেকে অলরেডি ইসরায়েলের নাগরিকত্ব দেওয়া শুরু করেছে ইসরাইল সরকার- যদিও এটি শুরু করেছে বহু বছর আগে থেকেই, কিন্তু ইহুদীরা এখন নিশ্চিত করছে যে পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ ভারতের উত্তর পূর্ব রাজ্যের পাহাড়ে বসবাসরত জনজাতি তাদের হারিয়ে যাওয়া বেনেমেনাসে বংশধর অর্থাৎ ইহুদী। তাই ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং ইহুদীরা তাদের বংশধরদের রক্ষা করার জন্য এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে – ভারত, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের সীমান্ত ও মধ্যবর্তী এলাকায় খ্রিস্টান রাষ্ট্র নয় বরং ইহুদী রাষ্ট্র হতে পারে।’
৬ ডিসেম্বর তিনি আরো একটি পোস্টে লেখেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র অথবা ভারতের একটি স্বাধীন অঙ্গরাজ্য হবে?
বাংলাদেশ সরকার এবং সেনাবাহিনী মনে করে পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাঙ্গালী-অমুসলিমরা স্বাধীন সার্বভৌমত্বের হুমকি তাই তারা দমন পীড়নের মাধ্যমে দমিয়ে রাখতে চাই এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে জোরপূর্বক ভূমি দখল করে অবাঙ্গালী-অমুসলিমদের শক্তি দূর্বল করতে চাই তার জন্য অযোগ্য, ক্ষমতালোভী, ব্যাক্তি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী ও মানুষগুলোকে ক্ষমতায় রেখে এবং ব্যবহার করে ভাগ করো শাসন করো পলিসির মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা কায়েম করে রেখেছে। এই প্রেক্ষাপটে বলবো – স্বাধীন বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্বের হুমকি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং অবৈধভাবে বসবাসরত দখলদার সেটেলার বাঙালি মুসলিমরা। কারণ – অমানবিক, নির্যাতন নিপীড়নের শক্তি কোনভাবেই চিরস্থায়ী হয় না। নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হতে হতে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ একদিন অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে এবং উঠেছে। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ একদিন মৃত্যু হাতে নিয়ে বিদ্রোহ করবে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে বলা যায়। দ্বিতীয়তঃ, ভারত সরকার অতীতে ভুল করছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া এবং পুনরায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া – তার মাশুল গুনছে স্বয়ং ভারত সরকার এবং ভারতীয় নাগরিকরা। তবে এইবার সেই ভুলের মাশুল- শুধরে নিবে ভারত।’
৫ ডিসেম্বর পোস্টে পিটি চাকমা লেখেন ‘বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা- খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং বান্দরবানকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র অথবা ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা। এর সহযোগীতায় থাকবে রাশিয়াও। তিন পার্বত্য জেলা দখলের জন্য রাশিয়া এস ৪০০ এবং সুকুই ৫৯ ফাইটার বিমান সরবরাহ করবে এমন চুক্তি ও হয়েছে আজ নরেন্দ্র মোদী এবং পুতিনের মধ্যে। ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী এক সাথে বাংলাদেশের উপর আক্রমণ করবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল অভ্যন্তরীণ দল উপদলগুলোকে নিয়ে। মাত্র সপ্তাহ খানিকের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে যাচ্ছে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র কিংবা ভারতের একটি স্বাধীন অঙ্গরাজ্য।’
৫ ডিসেম্বরের এই পোস্টের নিচে তিনি বিবিসি নিউজের সূত্র উল্লেখ করেছেন। যা সম্পূর্ণ ভুয়া। এ রকম অসংখ্য পোস্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সংবাদ তুলে ধরছেন প্রজ্ঞা তাপস চাকমা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলের জননিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে প্রজ্ঞা তাপস চাকমার এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি একান্ত জরুরি।

















