খাগড়াছড়িতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬, নির্বাচিত ১ হাজার ৪৪০ জন

fec-image

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে উৎসব, উচ্ছ্বাস আর ক্রীড়াপ্রেমী শিশু-কিশোরদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক খাগড়াছড়ি স্টেডিয়াম। “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর জেলা, উপজেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের রেজিস্ট্রেশনকৃত খেলোয়াড়দের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী বালক-বালিকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, মার্শাল আর্ট ও সাঁতার—এই আটটি জনপ্রিয় খেলায়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ আয়োজন ঘিরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলা ও একটি পৌরসভা থেকে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি ইউনিট থেকে ১৪৪ জন করে মোট ১ হাজার ৪৪০ জন প্রতিযোগীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত ইউনিটগুলো হলো—খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, গুইমারা, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি, রামগড়, মহালছড়ি, দীঘিনালা এবং খাগড়াছড়ি পৌরসভা।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এতে একাধিক খেলায় প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিনব্যাপী যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনা উপকমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা। জেলা ক্রীড়া অফিসার হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন ইভেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কোচ ও ক্রীড়া সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিভিন্ন খেলায় দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়। ফুটবল (বালক) দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক মো. নজরুল ইসলাম এবং কোচ হিসেবে থাকছেন তুহিন কুমার দে। বালিকা ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পালন করবেন প্রমিলা ফুটবল কোচ জ্যোতিষ বসু ত্রিপুরা।

ক্রিকেট (বালক) দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর আনিসুল আলম আনিক এবং কোচ হিসেবে থাকবেন মুজাহিদ চৌধুরী বাবু। বালিকা ক্রিকেট দলের ম্যানেজারও আনিসুল আলম আনিক; কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. আল আমিন।

কাবাডি (বালক-বালিকা) ইভেন্টে ম্যানেজারের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক মাদল বড়ুয়া। কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অংসা মারমা ও স্মৃতি রাণী নাথ।

দাবা প্রতিযোগিতায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রাশেদুল ইসলাম এবং কোচ হিসেবে থাকবেন জসীম উদ্দিন। সাঁতার প্রতিযোগিতায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পেয়েছেন সোহেল দেওয়ান; কোচ হিসেবে থাকবেন উজ্জ্বল মারমা।

অ্যাথলেটিক্সে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মতেন ত্রিপুরা ও সোহেল দেওয়ান। কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিমল কর্মকার।

ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকবেন কুহেলী দেওয়ান এবং কোচ হিসেবে জয় সরকার। মার্শাল আর্টে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একরাম হোসেন রানা এবং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আজহার আলী হীরা।

জেলা ক্রীড়া অফিসার হারুন-অর-রশিদ বলেন, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ তৈরির একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম। এখান থেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

জেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চার করা এই আয়োজন ইতোমধ্যেই ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ক্ষুদে খেলোয়াড়দের স্বপ্ন, অভিভাবকদের আশা এবং আয়োজকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ হয়ে উঠতে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া উৎসব।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, নতুন কুড়ি স্পোর্টস
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন