খাগড়াছড়িতে যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন ও সহায়তার কাজ চলছে : ডিসি

fec-image

নতুন করে বৃষ্টিপাত নেই পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে। দুইদিন ধরে রৌদ্রময় পুরো জেলা। জেলার জলমগ্ন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ঘরবাড়িতে ফিরেছে মানুষেরা। সড়ক যোগাযোগ ও যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে দূর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন স্পষ্ট হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে পুর্নবাসন ও সহায়তার জন্যে কাজ করা হচ্ছে। এর বাইরে প্রশাসনের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

চলমান দূর্যোগের কারনে মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি জেলায় ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষত ভেসে উঠেছে। জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকরা। ভেঙেছে গ্রামীণ সড়কসহ জেলার বিভিন্ন সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তা চেয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১০৩১ হেক্টর আউশ ধান, আমন ধানের বীজ তলা ও গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেত। এরমধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ২৩৩ হেক্টর জমি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাত হাজার ৩শ’ ৪৪ জন কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দীন চৌধুরী বলেন, গত ৬ তারিখ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত টানা দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমি ও কৃষকরা। এতে প্রায় ১১ কোটি টাকার উপরে আর্থিক মূল্যের ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে প্রণোদনা কার্যক্রম চালু আছে। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন উপ-পরিচালক।

এদিকে, টানা বর্ষণের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রামীণ কাঠামো। সড়কের পাশাপাশি ব্রীজ কালভার্টের এপ্রোচ নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ চলছে জানিয়েছে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার রহমান।

তিনি বলেন, কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপণের চেষ্টা চলছে। খুব শীগ্রই উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে কাজ শুরু করা হবে।

জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত বলেন, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে সড়ক, ফসলি জমির পাশাপাশি মৎস্য, গবাদি পশু ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রায় ১১ কিলোমিটার সড়ক, এলজিইডির ৭-৮ কি.মি এবং গ্রামীণ রাস্তা ঘাট ৯৯ কি.মি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এসব নির্ধারণের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে পুর্নবাসন ও সহায়তার জন্যে কাজ করা হচ্ছে। এর বাইরে প্রশাসনের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে জানিয়েছেন ডিসি।

তবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের কোন উন্নয়ন কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। এছাড়া চলমান দূর্যোগে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সেই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি! ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হবে তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি এখন পর্যন্ত।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন