খাগড়াছড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে ডিবি ও ডিএসবির ৩ সদস্য গ্রেফতার
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে রবিবার জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিন কনস্টেবলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্তও করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ডিএসবির কনস্টেবল মো. ফিরোজুল ইসলাম (২৬), মো. হাফিজুর রহমান (২৭) ও ডিবির কনস্টেবল মো. মরিুজ্জামান (৩০)।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুদ্দিন ভূইয়া জানান, ৮ জুলাই রাত ১০টার দিকে শহরের গঞ্জপাড়া এলাকার এক উপজাতী গৃহবধূ মাংপ্রু মারমার বাসায় গিয়ে মাদক রাখার অভিযোগ এনে ডিএসবির কনস্টেবল ফিরোজুল ইসলাম ও হাফিজুর রহমান এবং ডিবির কনস্টেবল মো. মরিুজ্জামান (৩০) ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে তারা ঐ উপজাতী গৃহবধূ মাংপ্রু মারমার স্বামী কেউচিং মারমাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে স্ত্রী মাংপ্রু মারমা এলাকার দুই তিন জনের কাছ থেকে ধার করে এনে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে স্বামীকে ছাড়িয়ে নেন।
অন্নদিকে গত ৯ জুলাই পুনরায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই পুলিশ সদস্যরা গঞ্জপাড়ার আরো এক উপজাতী উসামং আসামের বাসায় গিয়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় স্বামী রতন কুমারকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখায় তারা। একপর্যায়ে তারা স্ত্রী উসামং আসামের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ছয়শ’ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।
পুলিশের ওই তিন সদস্য ১০ জুলাই সকালে আবারও মাংপ্রু মারমার কাছে বাকী ২৫ হাজার টাকা দাবি করলে তিনি আরও দুই হাজার টাকা দিয়ে বলেন আমরা গরীব মানুষ এতো টাকা কোথায় পাবো।
খাগড়াছড়ি সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রইচ্ছ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মজিদ আলী অবহিত হলে তিনি তাৎক্ষণিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ১২ জুন রবিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত ডিবি ও ডিএসবির তিন কনস্টেবলকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অভিযুক্ত তিন পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় আর কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত আছে কি না তা গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে।
পরে এঘটনা পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলীর কাছে জানালে তিনি অভিযোগ তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন কে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে কমিটির তদন্ত শেষে প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিন পুলিশ সদস্যকে আটক করে তাদের চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হয় ।এবং তাদের আটক করে সদর থানা হাজতে রাখা হয়েছে।


















