দলাদলি-হানাহানি ভুলে চুক্তি বাস্তবায়নে পাহাড়িদের এগিয়ে আসার আহ্বান সংসদীয় ককাস’র
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আলোচকরা নিজেদের মাঝে অনৈক্য, হানাহানি ও দলাদলি না করে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সেখানকার নেতৃবৃন্দ ও জনগণকে একযোগে সরকারের প্রতি সহযোগিতা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের মিনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, পাহাড়ি বাঙালীদের মিলিত যুদ্ধে আমরা সেদিন মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করেছিলাম। দেশ গড়ার ভিত্তি হিসেবে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। সে উদ্যোগ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নস্যাৎ করে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুকে সপরিবরে হত্যা করা হয়েছিল। দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধুর কন্যা ১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ি মানষের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বোধ পালনে এগিয়ে এসেছিলেন। সেদিনের সেই ঐক্যে ফাটল ধরেছে বলে আজ চুক্তি বাস্তবায়নের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে।
এই মত বিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত হননি।
অধ্যাপক মেসবাহ কামালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। আলোচনায় অংশ নেন একেএম ফজলুল হক এমপি, গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস এমপি, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, টিপু সুলতান এমপি, কবি কাজী রোজী এমপি, নাজমুল হক প্রধান এমপি, চঞ্চলা চাকমা প্রমুখ।
টিপু সুলতান এমপি বলেন, পাহাড়ি মানুষের উন্নয়নে সরকারকে বাজেট বরাদ্দে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের শিক্ষা, সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যধারা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।
সঞ্জীব দ্রং বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগে বরাবরই পাহাড়িদের বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের অবিলম্বে জাতীয় সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাহাড়ি শিল্পিরা অংশগ্রহণ করে।

















