Notice: Trying to get property 'post_excerpt' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 56

Notice: Trying to get property 'guid' of non-object in /home/parbatta/public_html/wp-content/themes/artheme-parbattanews/single.php on line 58

দাপুটে জয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিশ্চিত বাংলাদেশের

soummo-1

খেলা ডেস্ক:

আগস্টে পাকিস্তান ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করার পরিকল্পনা করায় আগামী ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে সংশয়ের কালো মেঘ দেখা দেয়। তবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সব সংশয় ধুয়ে মুছে দিলেন মাশরাফিরা। রোববারের জয়ের ফলে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে।

পাকিস্তান জিম্বাবুয়ের মাটিতে স্বাগতিক দল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাশরাফিদের সামনে সহজ সমীকরণ ছিল এক ম্যাচ জিতলেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে যাবে টাইগারদের। দুই ম্যাচ টি-২০ সিরিজে টানা হারের পর প্রথম ওয়ানডেতেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে রীতিমতো উড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুর্দান্ত প্রতাপশালী সেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সব শংকা দূর করে দিল টাইগাররা।

যেই পাকিস্তান বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার স্বপ্ন কেড়ে নেয়ার পায়তারা করেছিল সেই পাকিস্তানই এখন বিপদে। শ্রীলংকার বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজে জিততে না পারলে নিজেরাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা হারাতে পারে।

সফল বিশ্বকাপ মিশন, পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে হেরে বসা টাইগাররা দ্বিতীয় ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে। ফলে, তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় রইল।ওয়ানডে ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের একমাত্র জয় ছিল ২০০৭ সালে। আট বছর পর এল দ্বিতীয় জয়।

১৬৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা টাইগাররা তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। স্বাগতিকরা ২৭.৪ ওভার খেলেই সহজ জয় তুলে নেয়।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকেন সৌম্য সরকার। দলীয় ২৪ রানের মাথায় তামিম-লিটনের বিদায়ের পর জুটি গড়ে তুলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ আর ওপেনার সৌম্য । এ জুটি থেকে আসে ১৩৫ রান। যা প্রোটিয়াদের বিপক্ষে টাইগারদের যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড জুটি।

অভিষেকের পর থেকেই দুর্দান্ত খেলে চলা সৌম্য ৭৯ বলে ৮৮ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার আর একটি ছক্কা।

আর বিশ্বকাপের চমক জাগানিয়া ব্যাটসম্যান রিয়াদ তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে ৬৩ বলে ৫০ রান করে বিদায় নেন।

এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ছুঁড়ে দেওয়া ১৬৩ রানের টার্গেটে ব্যাট হাতে নামেন টাইগার ওপেনাররা। সিরিজে সমতা আনার লক্ষ্যে টাইগারদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। তবে, এ ম্যাচেও ব্যর্থতার পরিচয় দেন টাইগারদের অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। দলীয় ইনিংসের দ্বিতীয় আর রাবাদার প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন ৫ রান করা তামিম।

তামিম ইকবাল ফিরে গেলেও সৌম্য সরকার আর লিটন দাশ মিলে টাইগারদের রানের চাকা ঘুরাতে থাকেন। তবে, অভিষেক ম্যাচে ৬ উইকেট নেওয়া রাবাদার দ্বিতীয় শিকারে বিদায় নেন লিটন দাশ। চতুর্থ ওভারে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। লিটন তার ইনিংসটি ১৪ বলে দুটি চার আর একটি ছয়ে সাজান।

শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের প্রোটিয়ারা যেখানে দলীয় ৩২ ওভারে দলের শতক তুলে নিয়েছিল, সেখানে টাইগাররা মাত্র ১৬.৩ ওভার খেলেই দলীয় শতক তুলে নেয়।

এর আগে টসভাগ্যের খেলায় এদিনও সুসংবাদ মিলেনি বাংলাদেশের জন্য। টসে হারলেও বাংলাদেশের বোলিংয়ের শুরুটা ছিল আগের তুলনায় অনেক পরিশীলিত, নিয়ন্ত্রিত। যার ফলটাও দ্রুতই মিলেছে। বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে মুস্তাফিজের কিছুটা শর্ট লেন্থের বল ডি ককের (২) ব্যাট ছুঁয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সাব্বিরের হাতে জমা পড়ে।

আমলা-ডু প্লেসিসের ২৯ রানের জুটি ভেঙেছেন রুবেল। প্রথম ম্যাচ সাইড বেঞ্চে বসে থাকা রুবেল দুর্দান্ত এক লেন্থ বলে উপড়ে দিয়েছেন আমলার অফ স্ট্যাম্প। আমলা ২২ রান করেন। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রণের সামনে রানের জন্য হাসফাঁস করতে দেখা গেছে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের। খুবই মন্থর ছিল তাদের রানের চাকা।

সেটি সচলের চেষ্টায় সফল হননি রুশো-মিলাররাও। আক্রমণ ভুলে নিজেদের গুটিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ১৯তম ওভারে রুশো (৪) বোল্ড হন নাসিরের বলে। মাহমুদউল্লাহর বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে মিলার করেন ৯ রান। এই সফরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান ছিলেন ডু প্লেসিস। উইকেট আকড়ে থাকায় সিদ্ধহস্ত তিনি। রোববারও সেই পথেই হাঁটছিলেন ৪১ রান করা ডু প্লেসিস। কিন্তু দলীয় ৯৩ রানে নাসিরকে ডাউন দ্যা উইকেট খেলতে গিয়ে লং অনে সৌম্যর হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

পথের কাঁটা ডুমিনিকে ফেরান মুস্তাফিজ। অফসাইডে মাশরাফির তৈরি ফিল্ডিং জাল ছিন্ন করার চেষ্টাতেই ফিরতে হয়েছে ডুমিনিকে (১৩)। ১২ রান করে ক্রিস মরিস রুবেলের বলে এলবির ফাঁদে পড়েন। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে রীতিমতো জবুথবু হয়েই থাকতে হয়েছে প্রোটিয়াদের। যার প্রমাণ হিসেবে বলা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ রান পূর্ণ করেছিল ৩১.৩ ওভারে।

একপ্রান্তে ফারহান বেহারডিন তোপ দাগানোর চেষ্টা চালিয়েছেন। অ্যাবোটকে (৫) নিজের তৃতীয় শিকার বানান নাসির। বেহারডিনকে ফিরিয়ে সফরকারীদের ইনিংসের লেজটা মুড়ে দেন অধিনায়ক মাশরাফি। ডিপ মিড উইকেটে অসাধারণ ক্যাচ নেন নাসির। বেহারডিন ৩৬ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে নাসির ২৬ রানে ৩টি, মুস্তাফিজ ৩টি, রুবেল ২টি, মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহ ১টি করে উইকেট নেন।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment
আরও পড়ুন