নাশতা শেষে শিশুকে রেখেই কক্সবাজারের পথে পাকিস্তানি পরিবার

fec-image

বাংলাদেশ ভ্রমণে এসে অসাবধানতাবশত দুই বছরের এক শিশুকে কুমিল্লার একটি রেস্টুরেন্টে রেখেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওয়ানা দেয় পাকিস্তানি একটি পরিবার। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় পৌঁছানোর পর শিশুটির নিখোঁজের বিষয়টি টের পান তারা। পরে প্রশাসনের সহায়তায় বিকেল ৩টার দিকে শিশুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তাফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে শুনেছিলাম শিশুটির পরিবার কাশ্মীরের। কিন্তু পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিতে এলে জানতে পারলাম তারা পাকিস্তানি। পাকিস্তান থেকে পরিবারের সদস্যরা এসেছেন বাংলাদেশে ঘুরতে। শনিবার দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন তারা। সকালে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাশতা করেন। নাশতা শেষ করে পাকিস্তানি পরিবারটি দুটি গাড়িযোগে যাচ্ছিলেন। একটিতে শিশুর বাবা-মা এবং অন্যটিতে শিশুর দাদা-দাদি ছিলেন। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল দাদা-দাদির গাড়িতে শিশু নাফিসা এবং দাদা-দাদির ধারণা ছিল শিশু নাফিসা তার বাবা-মায়ের গাড়িতে উঠেছে। উভয়ের ভুলে পাকিস্তানি শিশু নাফিসা হোটেল জাইতুনে রয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, পরে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় গিয়ে শিশু নাফিসাকে দেখতে না পেয়ে কুমিল্লার দিকে রওয়ানা দেয় পাকিস্তানি পরিবারটি। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিস সেই পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করলে তারা জাইতুন রেস্টুরেন্টে এসে বিকেল ৩টার দিকে শিশুটি নিয়ে পুনরায় কক্সবাজারের দিকে রওয়ানা দেন।

জাইতুন রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পরিবারটি চলে যাওয়ার পর তারা শিশুটিকে রেস্টুরেন্টে একা দেখতে পান। পরে দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সমাজসেবা অফিসের সহায়তায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় শিশুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন