পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প প্রশাসন

fec-image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি সম্পর্কিত মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়নের কিছু অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি নয়।

হেগসেথের মতে, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র মূলত আঞ্চলিক প্রতিরক্ষার জন্য তৈরি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না। এই পদক্ষেপ এসেছে তখন, যখন গ্যাবার্ড মার্চ ২০২৬-এ কংগ্রেসে পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন এই বর্ণনাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি “তথ্যভিত্তিক বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন।” পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পরিচালনা করছে, যা মূলত ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ নিশ্চিত করার জন্য নির্মিত।

পাকিস্তানে মূল ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: শাহীন-৩ মাঝারি পাল্লার, প্রায় ২,৭৫০ কিমি। পারমাণবিক ও প্রচলিত ওয়ারহেড বহন সক্ষম। শাহীন-২ প্রায় ২,৫০০ কিমি। গৌরী-২ প্রায় ২,০০০ কিমি। নাসর (হাতফ-৯)  ৬০–৭০ কিমি পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র। বাবর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নত সংস্করণে ৭০০ কিমি। আবাবিল (MIRV)  প্রায় ২,২০০ কিমি, উন্নয়ন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধীনে।

প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক অস্ত্র পাকিস্তানের হাতে রয়েছে, যা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে নিক্ষেপযোগ্য। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ভারত-কেন্দ্রিক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষুদ্র উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

এই নতুন নীতিগত অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা এবং মার্কিন-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এটি প্রযুক্তি হস্তান্তর, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরক্ষা সংলাপকে সহজতর করতে পারে।

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এই পদক্ষেপকে বাস্তবতার স্বীকৃতি হিসেবে স্বাগত জানানো হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন, নীতিগত অগ্রাধিকার এবং কূটনৈতিক সংকেতের এই সমন্বয় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে। আগামী মাসগুলোতে উভয় পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট বিবৃতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উৎস: টাইমস অফ ইসলামাবাদ

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন