পানছড়িতে কার্ডধারীর মাথা ফাটাল প্রকল্প চেয়ারম্যান ও সহযোগীরা


খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ডধারীর দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহত মো. আমির হোসেন (৫৫) ও তার সহধর্মিনী পারুল আক্তারকে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মোহাম্মদপুর গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউছুফ আলির কাউন্টারে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, কার্ডধারী আমির হোসেন তার পাওনা ধান ও গম আনার জন্য স্ত্রী পারুল আক্তারকে কাউন্টারে পাঠায়। প্রকল্প চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা এ সময়ে চাল দিলেও গম দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। গম নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রকল্প চেয়ারম্যানের লোকজন পারুল আক্তারের উপর চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। খবর শুনে আমির হোসেন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি মারধরের এক পর্যায়ে ধারালো কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে গেলে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান তিনি। খবর শুনে ছোট ভাই ফারুক গেলে তাকেও মারধর করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পানছড়ি স্বাস্থ্য নিয়ে আসে এবং জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নততর চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে প্রকল্প চেয়ারম্যান মো. ইউছুফ আলী জানান, ঘটনার সময় আমি গোসল করছিলাম। তবে চাউল ও গম দুটোই দেওয়া হয়েছিল। অল্প কিছু গম বাকী ছিল পরে দিবে বলেছিল। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আমির হোসেনের মাথা পাশের দেয়ালের সাথে ধাক্কা লাগে। তবে আমির হোসেনের লোকজনও আমার মা, ছেলে ও ভাগিনাকে মেরেছে।
গুচ্ছগ্রামের অনেক কার্ডধারীর দাবি মো. ইউছুফ আলী প্রকল্প চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নানান অনিয়ম করে চলছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছেন সকলে। এ ব্যাপারে পানছড়ি থানার ওসি মো. শফিউল আজম জানান, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে।

















