পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড লক্ষ্যচ্যুত : সংসদে সাচিং প্রু জেরি

fec-image

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি বলেছেন, ‘বিগত প্রায় পঞ্চাশ বছরে বহু সরকার এসেছে, চলে গেছে। এই ৫০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু মূল লক্ষ্য থেকে এই বোর্ড এখনো লক্ষ্যচ্যুত।’

জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে গতকাল ২৪ জুন পাহাড়ের মানুষের অর্থনৈতিক বাস্তবচিত্র তুলে ধরলেন বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরি। তিনি বলেন, ‘আয় থাকলেই তো আয়করের প্রশ্ন আসবে। বৃহত্তর পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ি সকল জাতিগোষ্ঠী দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। অর্থাৎ নুন আনতে পান্তা ফুরায়।’ তিনি বৃহত্তর পার্বত্যবাসীর সমস্যাসমূহের সমাধানে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আশা করেন।

বক্তব্যে সাচিংপ্রু জেরি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হিসেবে বান্দরবানের চিম্বুক ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে বলেন, তাদের উৎপাদিত পণ্য যেমন মিষ্টি কুমড়া, আদা, হলুদ, কলা, আম, কাঠাল বহু কিলোমিটার দূরে মাথায় করে এনে বাজারজাতকরণ অত্যন্ত কষ্টকর ও বেদনাদায়ক। আপনাদের দেখলে মায়া হবে।

পার্বত্যাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য অপাহাড়িদের দখলে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ খুবই নগণ্য উল্লেখ করে সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘পাহাড়ে প্রায় ১৫-২০ হাজার ব্যবসায়ী আছে। কিন্তু পাহাড়ি ব্যবসায়ী সীমিত। পাহাড়ি অঞ্চলে মৎস্যজীবী বলেন, কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, সকল ধরনের ঠিকাদার বলেন অথবা পরিবহন সেক্টরই বলেন, প্রতিটি সেক্টরেই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি খুবই নগণ্য।

তিনি বলেন, আমি পার্বত্যবাসীর পানির সমস্যা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল সমস্যার কথা ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনায় সংসদে উপস্থাপন করেছি। এবারের বাজেটে আশা করি, এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিফলন ঘটবে।

তিনি বলেন, মাননীয় অর্থমন্ত্রী ঐতিহাসিক চট্টলার বনিয়াদি পরিবারের সন্তান এবং বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিনি বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রামের সসম্যাসমূহের সমাধানে অগ্রাধিকার দেবেন আশা করি। যেসকল সসম্যা তিনি ইতোমধ্যে সংসদে উপস্থাপন করেছেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত দেশব্যাপী বৃক্ষ রোপন, খাল খনন-পুনখনন, সড়ক ও রেল পথের উন্নয়নে যেসব মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছেন, তার সফল বাস্তবায়ন সহায়ক কিছু আইডিয়া প্রদান করেন।

বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বান্দরবানের এই এমপি বলেন, বৃহত্তর পার্বত্যাঞ্চলে ৫টি রিজার্ভ ফরেস্ট আছে। এগুলো হলো- কাসালং, রাইংখ্যং, সাঙ্গু, মাতামুহুরী এবং পাবলাখালী রিজার্ভ। পাশাপাশি বান্দরবান, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া মধ্যবর্তী ধোপাছড়ি রিজার্ভ ফরেস্ট অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এটিকে নামে মাত্র রিজার্ভ বলা যেতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য এই ফরেস্টকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা সমুন্নত করতে এবং জাতিসত্তাসমূহের বন্ধন অটুট রাখার নিমিত্তে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সৃষ্টি করেছিলেন। বিগত প্রায় পঞ্চাশ বছরে বহু সরকার এসেছে, চলে গেছে। এই ৫০ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু মূল লক্ষ্য থেকে এখনো লক্ষ্যচ্যুত। আগামীতে পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন ধরনের জাতিসত্তার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধকরণ পরিকল্পনাসমূহ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: অধিবেশন, এমপি, জাতীয় সংসদ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন