প্রথম ম্যাচে ড্র করেও যারা বিশ্বজয় করেছিল : ইতিহাস যা বলে


বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর সঙ্গে ড্র করেছে ব্রাজিল। ফলে হেক্সা মিশন নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হলেও ইতিহাস বলছে, এমন শুরু কোনোভাবেই শেষ কথা নয়। বরং অতীতের পরিসংখ্যানই দিচ্ছে সেলেসাওদের বড় স্বস্তি।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে উদ্বোধনী ম্যাচের চাপ সব সময়ই বেশি থাকে। প্রথম ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট না পেলে অনেকেই সেটিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখেন। তবে ফুটবল ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, শুরুটা ধাক্কায় হলেও শেষটা হতে পারে গৌরবের।
শুরুর ধাক্কা সামলে যারা বিশ্বজয় করেছে, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক সেই সোনালী ইতিহাস:
১. ইংল্যান্ড (১৯৬৬)
নিজেদের মাটিতে আয়োজিত ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তাদের উদ্বোধনী ম্যাচে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। ঘরের মাঠের দর্শকদের প্রথম ম্যাচে হতাশ করলেও স্যার আলফ রামসের শিষ্যরা পরে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। গ্রুপ পর্ব পার করে নকআউটে বাজিমাত করে তারা। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র বিশ্বকাপটি ঘরে তোলে থ্রি-লায়ন্সরা।
২. ইতালি (১৯৮২)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ও অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি ইতালির। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে তারা একটি ম্যাচেও জিততে পারেনি! পোল্যান্ড (0-0), পেরু (১-১) এবং ক্যামেরুন (১-১ )—তিনটি ম্যাচই ড্র করে কেবল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে কোনোমতে পরের রাউন্ডে উঠেছিল তারা। প্রথম ম্যাচের সেই ড্রয়ের ধাক্কা ভুলে নকআউট পর্বে পা রাখতেই খোলস বদলে ফেলে আজ্জুরিরা। একে একে আর্জেন্টিনা, দুর্দান্ত ব্রাজিল ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খেয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আরও কিছু উদাহরণ:
প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়েও যে বিশ্বকাপ জেতা যায়, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ স্পেন (২০১০) এবং আর্জেন্টিনা (২০২২)। এই দুটি দল ড্র নয়, বরং নিজেদের প্রথম ম্যাচে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড (০-১) এবং সৌদি আরবের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে।
এই বাস্তবতা মাথায় রাখলে ব্রাজিলের বর্তমান পরিস্থিতি খুব একটা হতাশার নয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু করলেও সামনে পুরো টুর্নামেন্ট পড়ে আছে। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ছন্দে ফিরতে পারলেই হেক্সা মিশন এখনও অনেকটাই সম্ভব।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ম্যাচের ফলাফল নয়, আসল বিষয় হলো দল কত দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারে। ব্রাজিল সেই পরীক্ষা এখনই দিচ্ছে।

















