বাইশারীতে পাহাড়ে লাকড়ী আনতে গিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু
নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে পাহাড়ে লাকড়ী আনতে গিয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ মার্চ বাইশারী ইউনিয়নের আলী মিয়া পাড়া গ্রামের দুর্গম পাহাড়ী এলাকা চিতামুরা নামক স্থানে ।
প্রাপ্ত তথ্যে সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও নিকটতম আত্মীয় স্বজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলী মিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাইর মোহাম্মদের স্ত্রী সাত সন্তানের জননী জাহানারা বেগম(৫০) বাড়ীর সকলকে নিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষে প্রতিদিনের ন্যায় পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে লাকড়ী,ফুলঝাড় সংগ্রহ করতে যায় ।ঐসময় স্বামী নিজ কাজে ঘরের বাহিরে অবস্থান করে এবং বড়ছেলে গরু নিয়ে চরাতে যায় ও ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলে যায়।
স্বামী-সন্তান সন্ধার দিকে বাড়ী ফিরে মাকে না পেয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ি ঘর ও ঝোপ জঙ্গলে খোঁজা খুঁজির পর না পেয়ে এলাকাবাসীকে ঘটনাটি জানায় ।এর পর এলাকার লোকজনদের সাথে নিয়ে তল্লাশি করার পর নিজ বাড়ী থেকে আধা কিলোমিটার দূরত্বে চিতামুরা নামকস্থানে পাহাড়ের ঢালুতে লাশটির সন্ধান পায় ।
সাথে সাথে ঘটনাটি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক, বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী ইনচার্জ এ.এস.আই ওমর ফারুককে জানালে সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পাহাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
স্বামী সাইর মোহাম্মদ জানান, তার স্ত্রীকে কেউ হত্যা করেনি, তবে স্ত্রী জাহানারা দীর্ঘদিন যাবৎ মৃগি রোগে ভোগছিলেন এবং পেট ব্যাথা নিয়েও মাঝে মধ্যে পড়ে যেত।তাছাড়া গৃহবধূ জাহানারার ভাই বোন ছেলে মেয়েরাও দাবি করছেন মাঝে মধ্যে তিনি উক্ত রোগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন।তাই আত্মীয় স্বজনদের দাবি তাকে কেউ হত্যা করেনি, স্বাভাবিকভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় ২৫ মার্চ বুধবার সকাল ৮টার সময় নাইক্ষ্যংছড়ি থানার উপ পরিদর্শক এস.আই ফরিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এলাকাবাসীর ভাষ্য ও আত্মীয়স্বজনের সাথে আলাপ এবং লাশের সুরত হালে জানা যায় মৃত্যুটি স্বাভাবিক ভাবে হয়েছে।
বুধবার বিকাল ৪টার দিকে মৃত জাহানারাকে জানাযার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।


















