ভারতে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে মুসলিম যুবকে পিটিয়ে হত্যা

fec-image

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে এক বাঙালি মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত যুবকের নাম মনজুর আলম লস্কর (৩২)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থি থানার অন্তর্গত রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ভারতীয় গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার ( ২১ জানুয়ারি) চুরির অভিযোগ এনে কোমারোলুতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এক দশক ধরে কমারোলুতে জরি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। এত দিন ধরে ওই এলাকায় কাজ করলেও তাঁকে বারবার ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। পরিবারের দাবি, মঞ্জুরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল এবং মুক্তির বিনিময়ে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

মঙ্গলবার একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মঞ্জুরের স্ত্রীকে ফোন করে মুক্তিপণের দাবি জানানো হয়। স্বামীর প্রাণনাশের আশঙ্কায় পরিবার কোনোরকমে ৬ হাজার টাকা জোগাড় করে ওই নম্বরে পাঠায়। কিন্তু বুধবার রাতে পরিবারকে জানানো হয়, মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়েছে।

মঞ্জুরের বড় ভাই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও রাঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গিয়াসউদ্দিন লস্কর অভিযোগ করেছেন, এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত। তিনি বলেন, ‘যে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল এবং যারা জড়িত ছিল, তারাই আমার ভাইকে খুন করেছে।’

পরিবারের আরও দাবি, প্রথমে মঞ্জুরকে ‘বাংলাদেশি’ বলে তকমা দেওয়া হয়, তারপর চুরির অপবাদে জড়িয়ে তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরিবারের দাবি—পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে অন্ধ্র প্রদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য, অন্ধ্র প্রদেশে বর্তমানে টিডিপি-জেএসপি-বিজেপি জোট সরকার ক্ষমতায়।

মঞ্জুরের পরিবার এরই মধ্যে কমারোলু থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যে নম্বর থেকে মুক্তিপণের ফোন এসেছিল, সেই নম্বর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর একের পর এক হিংসা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। মঞ্জুরের হত্যাকাণ্ড সেই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই ঘটল।

উস্থির তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বাংলাভাষী সংখ্যালঘু পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি বা তাদের সহযোগী দল তাদের শাসিত রাজ্যগুলোতে শ্রমিকদের অবাধ যাতায়াত রুখতেই এই সন্ত্রাস চালাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: ভারত, মুসলিম, যুবক
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন