ভিনিসিয়ুসের বাতিল হওয়া গোল নিয়ে যা বলছেন বিশ্লেষকরা


ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপের তৃতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচে জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার মূল বিষয় হয়ে ওঠে তার প্রথমার্ধে বাতিল হয়ে যাওয়া একটি গোল।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। নিজেদের অর্ধে বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যাক হেন্ড্রি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল দখল করেন ভিনিসিয়ুস। এরপর প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত শটে জালে বল পাঠিয়ে গোলও উদযাপন শুরু করেন তিনি।
কিন্তু কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) হস্তক্ষেপ করলে ম্যাচের রেফারি মেক্সিকোর সিজার রামোসকে ঘটনাটি পুনরায় পর্যালোচনা করতে বলা হয়। রিপ্লে দেখার পর তিনি সিদ্ধান্ত দেন, বল দখলের আগে হেন্ড্রিকে ফাউল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়। সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়রা।
বিতর্কের সূত্রপাত মূলত ঘটনাটির ব্যাখ্যা নিয়ে। বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলের রিপ্লেতে দেখা যায়, বলের জন্য লড়াইয়ের সময় দুই খেলোয়াড়ের পায়ের মধ্যে সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল। কিছু দৃশ্যে মনে হয়েছে, ভিনিসিয়ুস আগে ডিফেন্ডারের পায়ে আঘাত করেন। আবার অন্য কিছু ফুটেজে দেখা যায়, তিনি বলের দিকে এগোচ্ছিলেন এবং বল সরানোর চেষ্টার সময় হেন্ড্রিই তার পায়ে স্পর্শ করেন।
এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সাবেক সহকারী রেফারি এবং বিবিসির নিয়মবিশেষজ্ঞ ড্যারেন ক্যানের মতে, এই সিদ্ধান্তে স্কটল্যান্ড ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে। তার দাবি, ভিনিসিয়ুস নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন এবং হেন্ড্রিই তাকে লাথি মারেন। ফলে গোলটি বহাল থাকলেও তা নিয়ে আপত্তির তেমন সুযোগ ছিল না।
একই মত পোষণ করেছেন ব্রাজিলের সাবেক মিডফিল্ডার লুকাস লেইভা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ভিনিসিয়ুসের চাপ প্রয়োগ ছিল অসাধারণ এবং তার দৃষ্টিতে ঘটনাটি কোনোভাবেই ফাউল নয়।
অন্যদিকে সাবেক স্কটিশ আন্তর্জাতিক ফুটবলার র্যাচেল করসি ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত সূক্ষ্ম’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ভিনিসিয়ুস বলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই সংস্পর্শের ঘটনা ঘটে। সেই কারণেই ভিএআর কর্মকর্তারা এটিকে ফাউল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে সবাই যে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন, তা নয়। সাবেক স্কটল্যান্ড ফরোয়ার্ড জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তার মতে, হেন্ড্রি যখন বল ক্লিয়ার করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ভিনিসিয়ুসের উপস্থিতি ও সংস্পর্শ তার স্বাভাবিক গতিবিধিতে বাধা সৃষ্টি করে। সে কারণে ঘটনাটি ফাউল হিসেবে বিবেচিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সম্ভাব্য হ্যাটট্রিকের সুযোগ হারালেও ম্যাচ শেষে হতাশার ছাপ দেখা যায়নি ভিনিসিয়ুসের মধ্যে। সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও একটি গোল করে জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ব্রাজিলকে ঘিরে সিজার রামোসের বিতর্কে জড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও দায়িত্বে ছিলেন এই মেক্সিকান রেফারি। সে ম্যাচে সুইসদের গোলের আগে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ এবং পরে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের ওপর বক্সের ভেতরে হওয়া ফাউলের শাস্তি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

















