মুগ্ধতা ছড়ালেন জাইমা জারনাজ রহমান

fec-image

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বরণের পর গৃহকোণ ছেড়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আর খালেদা জিয়ার জীবনাবসানের পর বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তাঁর নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান। পিতা তারেক রহমানের প্ল্যান বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সত্যিকারের এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তিনি। তবে রাজনীতির ক্যানভাসে উপস্থিতি সামান্য হলেও বাংলাদেশের গণমানুষের হৃদয়ে জাইমা রহমানের ঘটে গেছে এক জ্যোতির্ময় অভিষেক।

এক-এগারোর প্রেক্ষাপটে পিতামাতার সঙ্গে দেশ ছাড়েন ছোট্ট শিশু জাইমা রহমান। ১৮ বছর পর লন্ডন থেকে নির্বাসিত পিতামাতাকে সঙ্গে নিয়ে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরলেন জাইমা জারনাজ রহমান। লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে গ্রাজুয়েশন করে বিশ্বখ্যাত লিংকন’স ইন থেকে আইনের সর্বোচ্চ ডিগ্রি বার-অ্যাট-ল অজর্ন করেন তিনি। রাজনীতিক পিতা তারেক রহমানের স্নেহছায়ায় ঘরে বসেই শিখেছেন রাজনীতির প্রথম পাঠ। বার-অ্যাট-ল কিংবা বৈশ্বিক রাষ্ট্রনীতির কঠিন চ্যাপ্টারগুলো শিখে ওঠার পেছনে রক্তই তাঁর অনুপ্রেরণা, যেখানে মিশে আছে শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানের উত্তরাধিকার- যা তিনি ইতোমধ্যে জানান দিয়েছেন দেশ ও দেশের মানুষকে। অন্যদিকে মায়ের দিক থেকেও পেয়েছেন এক অনন্য মেধা ও ঐতিহ্যবাহী বংশীয় উত্তরাধিকার।

পিতা তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ লন্ডন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুক পোস্টে বাবা তারেক রহমানের পাশে থেকে দেশ সেবায় নিজেকে যুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে বাংলাদেশকে নতুন করে দেখতে চাই।’

বৈশ্বিক রাজনৈতিক ইতিহাসে উত্তরাধিকার নতুন কোনো ধারণা নয়। দেশপ্রেমের পরীক্ষায় একশতে একশ পাওয়া এবং যোগ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়েই যেতে চান জাইমা রহমান। জাইমা রহমানের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার এমন দৃঢ় প্রত্যয় দেশের মানুষ হৃদয় থেকেই গ্রহণ করেছে। তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আরো বিকশিত হোক, হৃদয়ে সদা প্রোথিত থাক শহীদ জিয়ার দেশপ্রেম, খালেদা জিয়ার আপোসহীন রাজনৈতিক দৃঢ়তা, এমন প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি আজ সর্বত্র।

ধর্মীয় অনুভূতি, ব্যক্তি আচরণ কিংবা পোশাকের শালীনতায় ইতোমধ্যে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন জাইমা। বিলেতি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও শিকড়ের টান ভুলে যাননি তিনি। দাদির স্মরণে উচ্চারণ করেছেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদায় বেলার গান কবিতা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে লন্ডনে আইন পেশায় কাজ করার সময় তিনি শিখেছেন আরও অনেক বেশি। শিখেছেন দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জন্য আইনগত সমাধান খুঁজতে।

তাঁর ভাষায়, ‘কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না।’ আর তাই শহীদ মিনারে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধায় বসে পড়াটা তাঁর সেই বিনয়ী আচরণের প্রতীক।

প্রবাস জীবনের প্রতিটি ধাপ জাইমা রহমানকে মানুষ নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে। তারেক রহমানের পাশে থেকে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান তিনি। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চান, গড়ে তুলতে চান। সামনে দীর্ঘ পথ, বিপুল চ্যালেঞ্জ। সেই পথ অতিক্রমে প্রয়োজন ধৈর্য্য, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন মানসিক শক্তি ও সাহস, শত্রু চেনার ক্ষমতা, মিত্র বেছে নেয়ার দক্ষতা। বাংলাদেশের আপামর মানুষের প্রত্যাশা, জাইমা জারনাজ রহমান সেই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবেন।

লেখক : সাংবাদিক ও গবেষক, ই-মেইল : [email protected]

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খালেদা জিয়া, জাইমা রহমান, তারেক রহমান
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন