রাঙামাটিতে ১৪৪ ধারা জারি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন


রাঙামাটিতে ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি গ্রুপ ও পদবঞ্চিতদের মধ্যে দাওয়া পাল্টা দাওয়ার প্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জেলা শহরের কাঠালতলীস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয় এবং এর আশপাশে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাঙামাটি থেকে পার্বত্যনিউজের নিজস্ব প্রতিনিধি জানান, সোমবার (৪মে) দুপুর ১২টার মধ্যে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে কোন সমাধান না হওয়ায় জেলা শহরের কাঠালতলীস্থ বিএনপি অফিসের সামনে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতা- কর্মীরা অবস্থান নেয়।
দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি মো. অলি আহাদের সমর্থকরা গাড়িযোগে শোডাউন করার সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাদের উপর ইট-পাটকেল ছুড়ে কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এসময় সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা এলাকা ত্যাগ করে।
তবে দুপুর ৩টার দিকে অলি গ্রুপের কর্মী-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে দলীয় অফিসের সামনে আসলে উভয় পক্ষের মধ্যে দাওয়া- পাল্টা দাওয়া শুরু হয়। এসময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, জেলা শহরের কাঠালতলীস্থ বিএনপি দলীয় কার্যালয় এবং এর আশপাশে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারী করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে।
এর আগে দীর্ঘ আট বছর পর শনিবার (২ মে) দিনগত রাত ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি, নাঈমুল ইসলাম রনিকে সাধারণ সম্পাদক এবং গালিব হাসানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কমিটি ঘোষণা করার পর কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়া ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে রোববার (০৩ মে) সকালে শহরের বনরূপা এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কাঠালতলীস্থ দলীয় অফিসের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে কমিটি বাতিলের দাবিতে নানারকম স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
বিক্ষোভরত ছাত্ররা অভিযোগ করে বলেছিলেন, ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি অলি আহাদ একজন অপহরণকারী, চাঁদাবাজ। তিনি সাজেকে অপহরণ ঘটনায় জড়িত। সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম রনি রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি জেলা সদরের কেউ নন। এছাড়াও কমিটির বেশিরভাগ নেতা অছাত্র এবং বিবাহিত।
ঘোষিত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সহসভাপতি হিসেবে রয়েছেন, খাইরুল ইসলাম রানা, জ্যোতি চাকমা, বাশার আজম, মাহমুদুল হাসান জুয়েল, রাজন রক্ষিত, আব্দুস সালাম, তামিম শাহরিয়ার, আমিনুল ইসলাম, রানা পাল, সুমন হোসাইন, নুর তালুকদার মুন্না ও মো. ইসহাক।
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে আব্দুস শাকুর জাভেদকে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন হাসান ইমরান, মো. শফিকুল ইসলাম, মোক্তার আহমেদ, পারভেজ হোসেন সুমন ও সাজিদ ইমতিয়াজ।
এছাড়া প্রচার সম্পাদক হিসেবে আবদুল আহাদ এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সানি আহমেদ সানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

















