রাঙামাটি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট পালিত অনিদিষ্টকালের কলেজ বন্ধ ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার:
শনিবার রাঙামাটি সরকারি কলেজে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দোকান পাট ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার প্রতিবাদে রাঙামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট পালন করেছে, কলেজ গেইট স্থানীয় ব্যবসায়ি কল্যাণ সমিতি। তাছাড়া একই ঘটনায় অনিদিষ্টকালে জন্য রাঙামাটি সরকারি কলেজে বন্ধ ঘোষণা করেছে, কলেজ র্কতৃপক্ষ।
রবিবার ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের শুরুতে সকালে কলেজ এলাকায় কয়েক’শ ব্যবসায়ি দোকান-পাট বন্ধ রেখে মানববন্ধনে অংশ নেন। এসময় তারা আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানায়।
এদিকে শনিবার রাঙামাটি সরকারী কলেজে পাহাড়ি-ছাত্র পরিষদ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনায় শহরের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। উদ্বেগ উৎকন্ঠারয় সাধরাণ মানুষ। শহরের যে কোন অপ্রীকিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি টহল জোড়দার করা হয়েছে। তাছাড়া ঘটনায় পুলিশ ও ব্যবসায়ীরে পক্ষ থেকে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে রাঙামাটি ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। সকালে রাঙামাটি পৌর চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে তা হ্যাপীর মোড় এলাকায় এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব রাখেন,রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সভাপতি আকবর হোসেন চৌসূরী, সহ সভাপতি বিপুল ত্রিপুরা,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহামুদ বাপ্পা প্রমুখ।
এসমাবেশে বক্তরা, পিসিপি’র চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ছাত্রলীগ ও সাধরাণ শিক্ষার্থী ও দোকান ভাংচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগকারীদের অতিদ্রুক গ্রেফতারের দাবী জানান।
বক্তারা পাহাড়ী ছাত্র পরিষদকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও উস্কানির ‘মাস্টারমাউন্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ১৯৯২ সালে রাঙামাটি কলেজ থেকে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক সংঘাত থেকে শুরু করে ২০১২ সালে আবার রাঙামাটি কলেজ থেকে সুষ্ট সংঘাত শহরে ছড়িয়ে দেয়া, সর্বশেষ রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ উদ্বোধনের দিন অযাচিতভাবে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির জন্য দায়ি এই সংগঠনটি।’
উল্লেখ্য, শনিবার পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের এক কর্মীদের মারধর করাকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে সংর্ঘষ সৃষ্টি হয়। এঘটনায় ওসিসহ মোট ১৫জন আহত হয়। ভাংচুর লাটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয় ৪টি মোটর সাইকেলে। এ ঘটনায় উত্তপ্ত শুরু হয় পাহাড়ি-বাঙালী সম্প্রদায়ের মধ্যে।#


















