রোয়াংছড়িতে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপর্যস্ত জনজীবন


টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে তলিয়ে গেছে ফসল, অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ১নং রোয়াংছড়ি, ২নং তারাছা, ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের রোয়াংছড়ি সদর থেকে কচ্ছপতলি পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তা এবং ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলে ভেঙে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ পথঘাট, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু জনপদ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে থাকা আমন ধান, সবজিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে।
চোখের সামনে মাসের পর মাসের পরিশ্রম হারিয়ে দিশেহারা কৃষকরা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই দুর্যোগের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়েছে একাধিক কালভার্ট, সেতুর সংযোগ সড়ক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লণ্ডভণ্ড ও তছনছ করে দিয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি অতীতের অনেক দুর্যোগকেও হার মানিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বাঁধ মেরামত এবং কৃষকদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, রোয়াংছড়ি উপজেলার একমাত্র জনপ্রিয় পর্যটন স্পট দেবতাকুমে যাতায়াত আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়াও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা জরুরি।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. জাফর আলম জানান, টানা প্রবল বর্ষণের ফলে এবছর অনেক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির আগে কিনে রাখা আম বাগানগুলোর সব আম নষ্ট হয়ে গেছে। একদিকে বাগানের অনেক আম ঝড়ে পড়ে গেছে। মাটিতে পড়ে যাওয়া আমগুলো আর বিক্রি করা যাবে না। এবার লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রাস্তার বেহাল দশা দেখে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাংফ্রা খুমী বলেন, বান্দরবান-রুমা সড়ক থেকে সংযোগ সড়ক অংতং পাড়া এবং ক্যছালং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাসহ রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ৬টি খুমী পাড়া এবং ৩টি ম্রো পাড়ার যাতায়াতের একমাত্র নির্ভরযোগ্য রাস্তাটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। বর্তমান রাস্তাটি সম্পূর্ণ মেরামতের জন্য গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে কি না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই অচল রাস্তাটি সম্পূর্ণ মেরামতের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থার মাধ্যমে এলাকাবাসীর মুখে হাসি ফোটাবে।

















