লংগদু বারবুনিয়াতে এক বাঙালির ঘর ভেঙ্গে দিয়ে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে পাহাড়িরা

নিজস্ব প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি লংগদু উজেলার বারবুনিয়াতে এক বাঙালির ঘর ভেঙ্গে দিয়ে পাহাড়িরা সর্বস্ব লুটে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় এপি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ইউছুফ আলী চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, রাসেদের (আব্দুল গফুরের ছেলে) ঘর ভেঙ্গে দেওয়ার কথা তিনি জানেন। দুদিন তিনি রাঙ্গামাটি শহরে থাকবেন। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে নিয়ে তিনি এর সমাধান করার চেষ্টা করবেন।

জানা গেছে, লংগদু সদর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বারবুনিয়ার বাসিন্দা মো. আব্দুল গফুর (৭০) সম্প্রতি তার কবুলিয়তভুক্ত জমিতে ঘর তুলে থাকতে শুরু করেছিলেন। গত ১৭ অক্টোবর শনিবার রাত ৯টার দিকে বাড়িতে ১৫/২০ জনের একদল চাকমা এসে গফুর বাড়িতে আছে কিনা জানতে চায়।

গফুরের মেয়ে ফাতেমা বেগম (৩০) তখন জানান, তার বাবা বাজারে গেছেন। তখন পাহাড়িরা বলে যে, এখানে বাড়ি করতে অনুমোতি কে দিয়েছে? জানের মায়া থাকলে এখনই যা-কিছু আছে সব নিয়ে চলে যেতে হবে। বাবা বাজারে, আর ভাই রাসেদ (২৭) গেছে জাল মারতে। বাড়িতে আছি আমরা দুই জন মহিলা আর দুটি বাচ্চা। বাড়িতে কোন পুরুষ মানুষ না থাকায় তাদের অনুরোধ করি রাতটা শুধু থেকে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কোন সময় দেয়নি। রান্না করা ভাতের পাতিলটা তারা উল্টে দিয়ে ভাতগুলো ফেলে দিয়ে সব কিছু ভাঙচুর করতে শুরু করে।

অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা বাচ্চা দুটিকে নিয়ে আর হাতের কাছে যা পেয়েছি তাই নিয়ে চলে আসি। পরে সকালে গিয়ে দেখি যে, ঘরের জিনিসপত্র তো দূরের কথা ঘরের চিহ্নমাত্র নেই। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসআই ইউছুফ আলী চৌধুরী জানান, চার দিন আগে সমীর চাকমা ও তার ছেলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন পাহাড়ি এসে ওই জায়গা নিজেদের বলে দাবি করেছিল। তখন তিনি উভয় পক্ষকে কাগজপত্র দেখে এর সমাধান করে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

এ প্রসঙ্গে স্থানী কারবারি পদ্মলোচন চাকমাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রাসেদের ঘর রাতের অন্ধকারে কে বা কারা ভেঙ্গেছে তা তিনি জানেন না। আর জমির মালিকানা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার যতটা মনে পড়ে এই জমিটি সমীর কুমার চাকমার নামে বন্দবস্তি করা আছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. হারুনুর রশীদ বলেন, জায়গাটি গফুরের কবুলিয়তের জায়গা। কিন্তু সমস্যা হলো, বাঙালিদের যেসব জায়গা পতিত আছে তার প্রত্যেকটাতেই এখন দেখা যায় কোন না কোন চাকমার নামে বন্দবস্তির কাগজ বের হচ্ছে। তবে চাকমাদের এসব বন্দবস্তির কতটা সঠিক তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন