লক্ষ্মীছড়িতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি

fec-image

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে উপজেলায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ডিপি পাড়া গ্রামের বাইন্যাছোলা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে একদল দুর্বৃত্ত সাংবাদিক মোহাম্মদ আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধরের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এছাড়া মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লক্ষীছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ আলী বর্তমানে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি দৈনিক জনকণ্ঠ ও ইংরেজি দৈনিক নিউএইজ-এর রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পেশায় একজন শিক্ষক হিসেবেও সুপরিচিত।

ভুক্তভোগীর বড় ছেলে আল বদরুদ্দোজা সাঈদ জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে তার বাবা লক্ষীছড়ির ডিপি নোয়াপাড়ায় পানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহে যান। এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “মনসুর আহমেদ, মো. মনসুর, টিপু, মনসুরের ছেলে আজগর, নুরু, তাজুলসহ আরও ১০-১১ জন এই হামলায় অংশ নেয়। তারা বাবাকে নির্মমভাবে মারধর করে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়।”

তিনি আরও জানান, এর আগেও আজম ও হাকিম নামে দুই ব্যক্তি তার বাবাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছিলেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীছড়ি থানার ওসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন