সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় মহালছড়ি জোনের মতবিনিময় সভা
চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কোনদিন জনগণের বন্ধু হতে পারে না- লে: কর্নেল হুমায়ুন কবির পিএসসিনিজস্ব প্রতিনিধি:
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষে মহালছড়ি জোন সদরে এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি জোনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লে: কর্নেল হুমায়ুন কবির পিএসসির সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় উপস্থিত ছিলেন, মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশফাকুল নুমান, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাজুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি সার্কেল এ এসপি রইস উদ্দিন ভুইয়া, মহালছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ মৈত্রী প্রসাদ খীসা, মহালছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ সেমায়ুন কবির চৌধুরী, খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সামছুদ্দিন ভুইয়া, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ১০ জন সাবেক ও বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ১০ জন মহিলাসহ ৪২ জন ইউপি মেম্বার, ১৭ জন হেডম্যান/কার্বারী, ৭ জন বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিনিধি, ১৭ জন জাতীয় রাজনৈতিক দল ও আঞ্চলিক সংগঠনের ছাত্র শাখার প্রতিনিধিসহ সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
মত বিনিময় সভায় এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, অবৈধ চাঁদা আদায়, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তৎপরতা রোধ ও মহালছড়ি দিবস উৎযাপন নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময়সভায় জোন অধিনায়ক বলেন, মহালছড়ি জোনের আওতাধীন এলাকায় যাতে শান্তি শৃংখলা ও সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয় সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কোনদিন জনগণের বন্ধু হতে পারে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানান তিনি। জোনের আওতাধীন প্রত্যেকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে সম্প্রীতি রক্ষা ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠনেরও আহবান জানান তিনি।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করলে কারোর কোন আপত্তি থাকবেনা। আন্দোলনের নামে এলাকায় কাউকে ত্রাস সৃষ্টি করে, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজি করতে দেওয়া হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। এ উপলক্ষে একটি লিফলেট এলাকার প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মতবিনিময়সভায় উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী জনগণের সেবাই নিয়োজিত। সেনাবাহিনী শান্তি শৃংখলার রক্ষার পাশাপাশি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এবারে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকায় শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক সেমিনার ও প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। এছাড়াও পশু পালন, হাঁস-মুরগী পালনসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে জোনের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই মহালছড়ি দিবস নামে এক সম্প্রীতির মিলন মেলা আয়োজন করা হবে বলে আগাম জানিয়ে দেন তিনি।



















