সোনাদিয়ায় ৫ হাজার একর বনভূমি দখল : ৫০০ কোটি টাকার মামলা, গ্রেপ্তার ২


মহেশখালীর সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা এলাকায় প্রায় ৫ হাজার একর ম্যানগ্রোভ প্যারাবন দখল ও উজাড়ের ঘটনায় ৫০০ কোটি টাকার পরিবেশগত ক্ষতির অভিযোগে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বন বিভাগ। যৌথ অভিযান চালিয়ে ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বন বিভাগের ঘটিভাঙ্গা বিট কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) বিভাষ কুমার মালাকার বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় চকরিয়া উপজেলার দুলাহাজারা এলাকার মুবিনুল ইসলামকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া মামলায় কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামাল এবং ঘটিভাঙ্গা এলাকার বর্তমান সদস্য (মেম্বার) ছিদ্দিক রিমনসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বন বিভাগসহ যৌথ বাহিনী সোনাদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অবৈধভাবে গড়ে তোলা চিংড়ি ঘেরের জন্য নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং কিছু শ্রমিকের ঝুপড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সোনাদিয়া ও ঘটিভাঙ্গা এলাকায় বনভূমি দখল, গাছ কাটা এবং চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ স্থাপন করে আসছিল। এর ফলে বিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ বনভূমি ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে।
পরিবেশবিদরা জানান, ম্যানগ্রোভ প্যারাবন উপকূলের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। এটি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। কিন্তু নির্বিচারে বন উজাড়ের কারণে এই প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে হাজার হাজার একর বনভূমি উজাড় হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, মহেশখালীর ম্যানগ্রোভ রক্ষায় বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ে বড় পরিসরে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ও কার্যকর বন সংরক্ষণ পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যথায় ভবিষ্যতে উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

















