বাগেরহাটে ৬ জনের ফাঁসি

আদালত

পার্বত্যনিউজ ডেস্ক:

বাগেরহাট: বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের দুই সদস্য ও খুলনা র‌্যাব-৬ এর এক সদস্যকে হত্যার দায়ে ছয়জনকে ফাঁসি এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলায় দুইজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস এম সোলায়মান এ রায় দেন।

রায়ের সময় খালাস পাওয়া দুইজন আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাতজনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গামগাছিয়া এলাকার মৃত লুৎফর শেখের ছেলে রফিকুল শেখ, ফজলু শেখের ছেলে কুদ্দুস শেখ ও ইদ্দিস শেখ, সুলতাল শেখের ছেলে বাবুল শেখ, এই উপজেলার খালকুলিয়া এলাকার তাহের ফকিরের ছেলে আলতাফ ফকির ও আব্দুল বারেক শেখের ছেলে ইলিয়াস শেখ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- একই উপজেলার গাবগাছিয়া এলাকার হাফেজ উদ্দিন শেখের ছেলে রিয়াজুল শেখ, ফজলু শেখের ছেলে আকরাম শেখ, হোসেন শেখের ছেলে আলম শেখ, মৃত ইসতাজ আলী শেখের ছেলে বাদশা শেখ, দেলোয়ার শেখের ছেলে জামাল শেখ ও কামাল ওরফে সুমন শেখ এবং খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হাগলা ডাঙ্গা এলাকার আসলাম শেখ।

এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি আসলাম শেখ ও সামছু শেখকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। তাদের বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার হাগলা ডাঙ্গা গ্রামে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর সুন্দরবনের পশুর নদীর একটি খালে দস্যুরা ডাকাতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবরে তৎকালীন র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক মেহেদি হাসান এবং কোস্টগার্ডের লে. কর্নেল সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল অভিযানে যায়।

ঘটনাস্থালে পৌঁছালে রাত দেড়টার দিকে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এক পর্যায়ে র‌্যাব ও কোস্টগার্ড ডাকাতদের আটক করতে গেলে ডাকাতরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই সদস্যদের নিয়ে নদীতে লাফিয়ে পড়ে।

এরপর থেকে তৎকালীন র‌্যাব-৬ এর পিসি মো. কাঞ্চন (৪৮) এবং কোস্টগার্ডের এম এইস কবির ও এমএ ইসলাম নিখোঁজ হন। ২ ডিসেম্বর ওই এলাকা থেকে এমএ ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং পরে বাকি দুজনেরও লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় র‌্যাব- ৬ এর তৎকালীন ডিএডি মো. মোহাসিন আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের নামে ২ ডিসেম্বর মংলা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর আসামি বাদশা ও জামাল পুলিশের হাতে আটক হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দেন। এরপর ২০০৭ সালের মে মাসের ৮ তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মংলা থানার তৎকালীন এসআই মো. নাসির উদ্দিন আদালতে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত মামলার দীর্ঘ শুনানিতে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রামাণের ভিত্তিতে ৮ বছর পর আজ এ রায় দিলেন।

 

Print Friendly, PDF & Email
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন