মানিকছড়িতে উপজাতীয়দের বাঙালী বিরোধী শ্লোগানকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙালী উত্তেজনা
মো. ইমরান হোসেনঃ
উপজেলার ছদুরখীল এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টার সময় আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার দিবসের সমাবেশ থেকে বাঙ্গালী বিরোধী শ্লোগানকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের ছদুরখীল বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার মানিকছড়ি উপজেলা ছাত্র-যুব ভুমি রক্ষা কমিটির উদ্যেগে পার্বত্য চট্রগ্রামে মানবাধিকার লংঘন বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় বিভিন্ন এলাকা থেকে জীপ ও মোটরসাইকেল যোগে আসা শতাধিক পাহাড়ি যুবক মিছিল নিয়ে তেতুলতলায় আলোচনা সভায় অংশ নেয়।
এ সময় মিছিল থেকে সেনাবাহিনী ও বাঙালী বিরোধী শ্লোগান দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বাঙালীরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিহত করতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ সময় স্থানীয় বাঙ্গালীরা সোনিয়া চাকমা নামের এক যুবককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এ দিকে পাহাড়ী-বাঙ্গালী সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মানিকছড়ি সাব-জোন কমান্ডার মেজর আমিন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. দিদারুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মোহন, আ’লীগ নেতা মো. আক্তার হোসেন, ইউপি সদস্য লাব্রচাই মারমা, আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
এ সময় তারা সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন পাহাড়ি-বাঙ্গালীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সকলের আন্তরিকতা সহযোগিতা প্রয়োজন।
অপরদিকে ডেমোক্রাটিক ইউথ ফোরাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মানিকছড়ি উপজেলার সুদুরখীল নামক স্থানে মানিকছড়িতে সেনা সহায়তায় চলমান ভূমি বেদখল বন্ধসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দাবিতে মানিকছড়ি ভূমি রক্ষা ছাত্র-যুব-নারী কমিটির উদ্যোগে সমাবেশ করার সময় বাঙ্গালীরা হামলা চালায়।
এতে থোইচিং মারমা(২৫) পিতা-মংহ্লাপ্রু মারমা, লক্ষ্মীরাম চাকমা(৩৬) পিতা-মেরাকাজি চাকমা ও মনাবো চাকমা (৩৮), পিতা- গোপাল চাকমা গুরুতর আহত হয়েছেন। বাঙালীদের হামলার কারণে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মানিকছড়ি থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, বাঙ্গালী বিরোধী সেøাগানকে কেন্দ্র করে উপজাতী ও বাঙ্গালীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের হাতে আটক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে বিশেষ কোন অভিযোগ না পাওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যে কোন অনাকাংখিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।


















