পরিবেশ রক্ষায় খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

fec-image

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে জেলায় ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে খাগড়াছড়ি জোন, আর এতে সহযোগিতা করছে সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি রিজিয়ন

উদ্বোধনের পরপরই পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চেঙ্গী স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আমিনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, মহালছড়ি জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-জাবির আসিফ, খাগড়াছড়ি রিজিয়নের স্টাফ অফিসার (জি-টু-আই) মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিন, জেলা বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রব রাজা, যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সমাজসেবক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা, ম্রাসাথোয়াই মারমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, খাগড়াছড়ি জেলার পরিবেশ সংরক্ষণ, বনাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পাঁচ বছরের ধাপে ধাপে ২০ লাখ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় আড়াই লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন,একটি গাছ কেবল একটি বৃক্ষ নয়, এটি জীবন, ভবিষ্যৎ এবং পরিবেশের নিরাপত্তার প্রতীক। বৃক্ষ কখনো মানুষের ক্ষতি করে না; বরং ফল দেয়, ফুল দেয়, ছায়া দেয়, বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয় এবং জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। একটি গাছ রোপণ মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর ভিত্তি স্থাপন করা।

তিনি আরও বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। একটি চারা রোপণের চেয়েও বড় কাজ হলো সেটিকে বাঁচিয়ে রাখা। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি গাছের পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং সুরক্ষায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”

পরিবেশ সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “সবুজায়নের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং জৈব ও কম্পোস্ট সার উৎপাদনের মতো কার্যক্রমও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি খাগড়াছড়িকে দেশের অন্যতম সবুজ ও পরিবেশবান্ধব জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্টদের আশা, সেনাবাহিনীর এই বৃহৎ সবুজায়ন উদ্যোগ শুধু বৃক্ষরোপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং একটি টেকসই ও সবুজ খাগড়াছড়ি গড়ার আন্দোলনে রূপ নেবে। আগামী পাঁচ বছরে ২০ লাখ বৃক্ষরোপণের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে খাগড়াছড়ি আরও সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব জেলায় পরিণত হবে।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সবুজবৃক্ষ
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন