খাগড়াছড়ির দুর্গম চিকনচান পাড়ায় সেনাবাহিনীর সৌরশক্তিচালিত পানির প্রকল্প

fec-image

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ছড়া ও ঝিরির পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের দুর্গম চিকনচান পাড়ার মানুষ। বর্ষায় ঘোলা পানি, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—এই দুই সমস্যার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে আসছিল শতাধিক পরিবার। অবশেষে তাদের সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি সদর জোনের উদ্যোগে সৌরশক্তিচালিত পানির পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে দুর্গম এই পাহাড়ি জনপদে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে এলাকার শতাধিক পরিবার ছাড়াও চিকনচান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এখন নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাচ্ছেন।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সদর জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা দূরবর্তী ছড়া ও ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতেন। এতে যেমন সময় ও শ্রম ব্যয় হতো, তেমনি বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও ছিল। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাস্তবায়িত এই সৌরশক্তিচালিত সুপেয় পানি প্রকল্প শুধু পানির সংকট দূর করবে না, বরং স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

দুর্গম পাহাড়ের বুকে সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত চিকনচান পাড়ার মানুষ এখন দেখছেন একটি সুস্থ, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় আগামী দিনের স্বপ্ন।

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: খাগড়াছড়ি, চিকনগান পাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন