৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা-পাতা সংগ্রহ করে তৃতীয়বার পেলেন সম্মাননা

fec-image

টানা তৃতীয়বারের মতো জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নেপচুন চা-বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার। মাত্র ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা-পাতা সংগ্রহ করে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

গত বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চা-পাতা চয়ন প্রতিযোগিতায় দেশের ১৭২টি নিবন্ধিত চা-বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন ৫৮ বছর বয়সী জেসমিন আক্তার। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও তিনি একই সম্মাননা লাভ করেছিলেন।

প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত ৩০ মিনিটে জেসমিন ১৩ কেজি চা-পাতা সংগ্রহ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সংগ্রহ করেন সাড়ে ৯ কেজি পাতা। এ ছাড়া ২০২৫ সালে তিনি ২৫ হাজার ৬২১ কেজি চা-পাতা উত্তোলন করে একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড গড়েন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ের পর কুমিল্লা থেকে স্বামী আবদুল বারেকের সঙ্গে ফটিকছড়ির নেপচুন চা-বাগানে আসেন জেসমিন আক্তার। সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে চা-বাগানে কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে চা-গাছের পরিচর্যা ও পাতা চয়নে দক্ষ হয়ে ওঠেন। প্রায় চার দশকের নিরলস শ্রম, অভিজ্ঞতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি আজ দেশের সেরা চা-পাতা চয়নকারীর স্বীকৃতি পেয়েছেন।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে জেসমিন আক্তার বলেন, ‘কখনো পুরস্কারের কথা চিন্তা করিনি। সংসারের জন্য কাজ করেছি। আবারও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

জানা গেছে, জেসমিনের পুরো পরিবার চা-শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্বামী, ছেলে, পুত্রবধূ, মেয়ে ও জামাইসহ পরিবারের আট সদস্য একই চা-বাগানে কাজ করেন। তবে তিনি আগামী প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তাদের জন্য আরও উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান।

ইস্পাহানি গ্রুপের মালিকানাধীন নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জেসমিন আক্তারের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের চা-শিল্পে কর্মরত লাখো শ্রমিকের পরিশ্রম, দক্ষতা ও সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর সাফল্য দেশের চা-শ্রমিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’

Print Friendly, PDF & Email
ঘটনাপ্রবাহ: সম্মাননা
Facebook Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন