পানছড়িতে শতভাগ সাফল্য দিয়েছে মধ্যনগর মাদ্রাসা
পানছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলায় মধ্যনগর মাদ্রাসায় এবারের এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী ও জেডিসি পরীক্ষায় পাশ করেছে শতভাগ। যার মাঝে জেডিসিতে রয়েছে দুটি জিপিএ-৫। এবারে উপজেলায় শতভাগ পাশের সাফল্য এনে অজপাড়াগাঁয়ের এ মাদ্রাসাটি বুঝিয়ে দিল ইচ্ছা থাকিলে উপায় হয়।
উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির মধ্যনগর গ্রামের প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত মধ্যনগর মাদ্রাসা। অজপাড়াগাঁয়ের এই মাদ্রাসাটি এলাকাবাসীর মুষ্ঠির চাউলের সহযোগিতায় চলে আসছে দীর্ঘ বছর। মাদ্রাসায় দশ জন শিক্ষক থাকলেও তাদের কোন বেতন নেই। নামে মাত্র পনের’শ/দু’হাজার টাকা করে পকেট খরচ পায়। কিন্তু দমে যায়নি ধৈর্য্যশীল শিক্ষকরা। অভাবকে দুরে ঠেলে দিয়ে নিজেদের সেরাটুকু ঢেলে দিয়েছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। আর ছাত্র-ছাত্রীরাও এনে দিয়েছে বুকভরা সাফল্য যা নিয়ে গর্বে ভাসছে পানছড়িবাসীর বুক।
জানা যায়, এবারের এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীতে মধ্যনগর মাদ্রাসা হইতে সীতকর্ম্মাপাড়া কেন্দ্রে অংশ গ্রহন করেছে মোট এগারজন। এতে ছয়জন “এ”, চারজন “এ মাইনাস” ও একজন পেয়েছে “বি”।
অপরদিকে অত্র মাদ্রাসায় জেডিসি’র অনুমোদন না থাকায় পানছড়ি ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার মাধ্যমে রেজিষ্ট্রেশন করেছে সর্বমোট ষোল জন। এতে দুই জন “এ ্প্লাস” দশজন “এ” ও চারজন পেয়েছে “এ মাইনাস”। দুই “এ ্প্লাস”ধারী মধ্যনগর গ্রামের মো: আ: ছাত্তার ও বানেছা আক্তারের ছেলে মো: ইসমাইল হোসেন অন্যজন জিয়া নগর গ্রামের আবদুল খালেক ও নাছিমা আক্তারের মেয়ে মোছা: খুরশীদ জাহান নুরী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার শিক্ষকরা সামান্য পকেট খরচ পেলেও লেখাপড়ার ব্যাপারে তারা ছিল খুবই আন্তরিক। নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগের ফলেই ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে আন্তরিকতা বেড়েছে। যার ফলেই এসেছে এ সাফল্য। এলাকাবাসীর দাবী বর্তমানে অত্র মাদ্রাসায় দাখিলে নিয়মিত পাঠদান চলছে। তাছাড়া দাখিলের অনুমোদনের জন্য কাগজ-পত্রাদিও সহসাই অগ্রগামী করা হবে। প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতা পেলেই প্রত্যন্ত এই এলাকার মানুষের স্বপ্নের মাদ্রাসাটি দাখিলে রুপান্তরিত হবে বলে আশা করছেন অত্র এলাকার নিরীহ জনগণ।



















